

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আগামী ৬ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) এক দিনের ছুটি নিলেই সরকারি চাকরিজীবীরা টানা চার দিনের ছুটির সুযোগ পাচ্ছেন—এমন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, এই প্রচারণার মধ্যে একটি বড় বিভ্রান্তি রয়েছে। কারণ, সরকারি ছুটি বিধির শর্ত অনুযায়ী দুই ছুটির মাঝখানের কর্মদিবসে ‘অর্জিত ছুটি’ নিলে এর আগে বা পরের সংযুক্ত ছুটির যেকোনো একটি পর্বও অর্জিত ছুটি হিসেবে গণনা করা হয়। ফলে বিষয়টি যতটা সহজভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, বাস্তবতা ততটা সরল নয়।
সামাজিক মাধ্যমে বলা হচ্ছে, ৫ আগস্ট (বুধবার) ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে সাধারণ ছুটি। এর পরদিন ৬ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) এক দিনের নৈমিত্তিক বা অর্জিত ছুটি নিলেই ৭ ও ৮ আগস্টের (শুক্র ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিনের অবকাশ মিলবে। একই ধরনের আলোচনা চলছে ২৬ আগস্টের পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) ছুটিকে ঘিরে। বলা হচ্ছে, ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) এক দিনের ছুটি নিলে ২৬ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত চার দিন ছুটি পাওয়া যাবে।
তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বিষয়টি স্পষ্ট করে বলছেন, মাঝখানের কর্মদিবসে অর্জিত ছুটি নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস (বিএসআর) বা সরকারি ছুটি বিধিমালায় বিশেষ শর্ত রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি বা সাপ্তাহিক ছুটির মাঝখানে কেউ অর্জিত ছুটি নিলে আগে বা পরের সংযুক্ত ছুটির যেকোনো একটি অংশও ওই কর্মচারীর ‘অর্জিত ছুটি’র হিসাব থেকে কাটা যাবে।
উদাহরণ হিসেবে কর্মকর্তারা জানান, ৫ আগস্ট (বুধবার) সাধারণ ছুটি, ৬ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) কর্মদিবস এবং ৭ ও ৮ আগস্ট (শুক্র ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি। কেউ যদি ৬ আগস্ট অর্জিত ছুটি নেন, তবে বিধি অনুযায়ী ৬ আগস্টের পাশাপাশি ৫ আগস্টের এক দিন অথবা ৭ ও ৮ আগস্টের দুই দিনের যেকোনো একটি অংশ তাঁর পাওনা অর্জিত ছুটি থেকে কেটে নেওয়া হবে। বাইরে থেকে দেখলে এটিকে টানা চার দিনের ছুটি মনে হলেও বাস্তবে কর্মচারীর হিসাব থেকে একাধিক দিনের ছুটি কাটা যায়। তাই এটিকে ‘অতিরিক্ত বা বিশেষ চার দিনের ছুটি’ হিসেবে প্রচার করা সঠিক নয় বলে মত তাঁদের।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মোস্তফা জামান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছুটি নিয়ে যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে, বিষয়টি আসলে তেমন নয়। দুই ছুটির মাঝখানে অর্জিত ছুটি নিলে আগে বা পরের সংযুক্ত ছুটিও ওই কর্মচারীর পাওনা অর্জিত ছুটির হিসাবেই গণনা করা হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা বলেন, অনেকেই মনে করেন এক দিন ছুটি নিলেই টানা চার দিন ফ্রি ছুটি পাওয়া যায়। কিন্তু বাস্তবে এর উল্টোটা ঘটে। এক দিনের ছুটি নিতে গিয়ে আগে বা পরের সংযুক্ত ছুটিও হিসাব থেকে কাটা যায়, ফলে কর্মচারীদের জন্য এতে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়।
তিনি আরও বলেন, এভাবে মাঝখানে ছুটি নেওয়ার বিষয়টিও কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। সবাইকে একসঙ্গে ছুটি দিলে দাপ্তরিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটবে। এসব হিসাব-নিকাশের কারণেই বাস্তবে খুব কমসংখ্যক কর্মচারী এই পদ্ধতিতে ছুটি নিয়ে থাকেন।