

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। সাংবিধানিক সময়সীমা মাথায় রেখে সরকার আগামী আগস্টের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। একই সময়ে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়েও দলটির ভেতরে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন নাম আলোচনায় থাকলেও সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সরকারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে জাতীয় সংসদের পরবর্তী নিয়মিত অধিবেশনের জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আগস্টের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব। যদিও নির্বাচনসূচি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দল পরিচালনায় ভূমিকা এবং রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার কারণে মির্জা ফখরুলের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। তবে দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
গত শনিবার বগুড়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সেটি সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটিই নির্ধারণ করবে। দলীয় কিংবা নির্দলীয়—যে ধরনের প্রার্থীই বিবেচনায় আসুক, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে দলীয় ফোরামেই।
এর আগে ধারণা করা হয়েছিল, সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান বাধ্যতামূলক নয়। প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই নির্বাচন সম্পন্ন করা যায়।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানও সম্প্রতি একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন হবে না। সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সংসদের পরবর্তী অধিবেশন বসবে এবং সেই সময়ের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
জাতীয় সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা। তবে দলীয় সূত্র বলছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতামত গুরুত্বপূর্ণ হলেও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন আসবে স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকেই।
দলটির ভেতরে মির্জা ফখরুলের নাম আলোচনায় থাকার পেছনে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে দলের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন, রাজনৈতিক সংকটের সময় সংগঠনকে ধরে রাখা, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এবং দলীয় রাজনীতির বাইরেও তার গ্রহণযোগ্যতা তাকে অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রেখেছে। কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিও প্রকাশ্যে তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে উপযুক্ত বলে মত দিয়েছেন।
তবে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে সরকার ও দলের উভয় ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আসবে। সে ক্ষেত্রে তাকে মন্ত্রিসভার দায়িত্ব ছাড়তে হবে। একই সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব পদেও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে। এছাড়া সংবিধান অনুযায়ী তাঁর সংসদীয় আসন শূন্য হওয়ায় ওই আসনে উপনির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজন হবে।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেছেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন জানিয়েছেন, নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন প্রস্তুত রয়েছে। সংসদ সচিবালয় থেকে সংসদ সদস্যদের ভোটার তালিকা পাওয়ার পর তফসিল ঘোষণা করা হবে। একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রকাশ্য ব্যালটে ভোট গ্রহণ হবে। আর একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।