সোমবার
০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এমন দিন নাই, প্রধানমন্ত্রী কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নিউজ পাঠান না: জ্বালানিমন্ত্রী

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, বিদ্যুৎখাত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর নিয়মিত নজরে রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর ফলে প্রতিদিনই প্রধানমন্ত্রী ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নিউজ’ পাঠান।

বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, ইদানীং পত্রপত্রিকায়, টেলিভিশনে, কনটেন্ট ক্রিয়েটররা বিদ্যুতের বিল নিয়ে হইচই শুরু করেছে। নানান কারণে বিদ্যুতের বিল বাড়তে পারে। কিন্তু এমন শুরু হয়ে গেল...। প্রধানমন্ত্রী এমন দিন নাই যেদিন প্রধানমন্ত্রী কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নিউজগুলো আমার কাছে পাঠান না।’

সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত এ সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘জুন মাস থেকে বিদ্যুতের নতুন দাম হয়েছে। বিদ্যুতের স্ল্যাব পরিবর্তনের কারণে অনেকের দাম বেড়ে গেছে। সেগুলো নিয়ে অভিযোগ করছে। অনেক রিপোর্টার এসেছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, রিপোর্টটা করছেন বিস্তারিত চেক করেছেন। কারণ আমাদের রিপোর্টে অন্য তথ্য পেলাম। রিপোর্টারকে বললাম, চেক কইরো। চেক না করে এগুলো করলে আমাদের জন্য কঠিন। তোমরা আমাদের ব্ল্যাকমেইলিং করছো। আমরা বসে নেই। আমাদের তো বিদ্যুতের বিল করতেই হবে। বিদ্যুৎ তো কিনতে হয়।’

মন্ত্রীর মতে, এখন গণমাধ্যমের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। ফলে সবাই সংবাদ প্রকাশে প্রতিযোগিতায় থাকে। তবে সরকারও সমস্যাগুলো সমাধানে বসে নেই।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এতগুলো মিডিয়া হয়ে গেছে, তাদেরও নিউজ করতে হবে। নিউজ আইডিয়া পেলেই, যা পাওয়া যায়। সরকারকে কীভাবে ইয়ে... করা যায় সেটাও করবে। কিন্তু আমি অনুরোধ করব আপনারাও কিন্তু ভোক্তা।’

বিদ্যুৎমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আপনারা জানেন একসময় আমার বাড়ির লাইন কেটে দেওয়া হয়েছিল। ঐতিহাসিকভাবে এ বিভাগে এই ঝামেলাগুলো আছে। এটা রাতারাতি পরিবর্তন হবে না। আমরা চেষ্টা করছি। নিউজ হওয়ার পর থেকে প্রত্যেকটা ইউনিট অ্যালার্ট হয়ে গেছে। এমনকি আজ প্রতিমন্ত্রী সব বিল নিয়ে প্রেস কনফারেন্স করেছে। এখানে যা বলা হয় আর মাঠ থেকে রিপোর্ট পাওয়া যায় তা পুরোপুরি ভিন্ন।’

বিদ্যুতের বিল নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে সতর্ক করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনও করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের তথ্য ও আলোচনায় উঠে আসা তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এক কর্মকর্তা তাকে পরামর্শ দিয়েছেন, ভবিষ্যতে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হলে শীতকালে বাড়ানো উচিত।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার এক অফিসার বলেছে—‘‘বিদ্যুতের দাম বাড়ালে শীতকালে বাড়ায়েন।’’ আমি বলি, কেন? বলে, ‘‘শীতকালে তো বিল কম আসে। সুতরাং বিদ্যুতের বিল ইফেক্ট করলেও সেটা গায়ে লাগবে না। গরমকালে এমনি বিদ্যুতের বিল আসে তার ওপর এটা অ্যাড হয়।’’ বুদ্ধিটা আপনি খারাপ দেননি। ভবিষ্যতে এটাই চিন্তা করব।’

লোডশেডিং নিয়ে মন্ত্রী বলেন, গ্রামাঞ্চলে যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে, তার বেশিরভাগই বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে নয়; বরং কারিগরি সমস্যার কারণে। শতভাগ বিদ্যুতায়নের সময় অনেক এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎলাইন নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে চাহিদা বাড়লে এসব লাইনে সমস্যা দেখা দেয় এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়।

তিনি জানান, এ সমস্যার সমাধানে পল্লী বিদ্যুৎকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে পুরো পরিস্থিতির উন্নতি হতে কিছুটা সময় লাগবে।

বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকার যে আর্থিক অব্যবস্থাপনা করে গেছে, তা একটা ব্যবস্থায় অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে। তার সঙ্গে প্রাইভেট পাওয়ার স্টেশনগুলোকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে হয়। আমরা যদি ঠিকমতো পেমেন্ট না করতে পারি, তাহলে তারা জ্বালানি আমদানি করতে পারে না। আর জ্বালানি আমদানি না করলে পাওয়ার স্টেশন চলে না। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের রেখে গেছে।’

সংলাপে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে উল্লেখ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, আগামী পাঁচ বছরে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এতে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। সেই অর্থ দিয়ে বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া দায়ও পরিশোধ করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নে কৃষিজমি ব্যবহারে সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ কারণে সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য পতিত ও অনাবাদি জমিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর ভুঁইয়া। আরও বক্তব্য দেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির প্রমুখ।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Portugal VS Spain
Scheduled
07 Jul, 01:00 AM
VS
World Cup