

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


একাধিক সংশোধনী ও দীর্ঘ আলোচনার পর জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের আইনি কাঠামো ‘অর্থ বিল, ২০২৬’।
সোমবার (২৯ জুন) সংসদের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের আহ্বানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করেন। এরপর কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
এর আগে বিলটি নিয়ে সংসদ সদস্যদের আনা জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব এবং এর সাধারণ নীতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় বিভিন্ন বিষয়ে অংশ নেন সংসদ সদস্যরা।
অধিবেশনের শুরুতে অর্থমন্ত্রী বাজেট বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক প্রস্তাব ও সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের লক্ষ্যে ‘অর্থ বিল, ২০২৬’ দ্রুত বিবেচনার জন্য সংসদে তোলেন।
বিলটি আলোচনায় ওঠার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাসহ একাধিক সদস্য বাজেট ঘাটতি, কর ও ভ্যাটের চাপ, ব্যাংক খাতের অনিয়ম, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের অব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এসব বিষয়ে আরও যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানিয়ে জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাবও আসে।
দীর্ঘ আলোচনার পর একাধিক সংশোধনীসহ বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হয়।
পাসের পর সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার একটি দুর্বল অর্থনীতি এবং চ্যালেঞ্জিং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে। তবে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সরকার আশাবাদী।
তিনি আরও বলেন, ধীরে ধীরে দেশকে ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করা হচ্ছে। বেসরকারি খাত, উদ্ভাবন এবং কর্মসংস্থান ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হবে।
অর্থমন্ত্রী বাজেট আলোচনায় অংশ নেওয়া সংসদ সদস্যদের মতামতকে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানান তিনি।
বাজেটকে তিনি শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি রূপরেখা হিসেবে বর্ণনা করেন।
মুদ্রাস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের নীতিগত দুর্বলতা, দুর্নীতি, অর্থপাচার, বিনিময় হার নিয়ে অনিয়ম এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবের কারণে অর্থনীতি চাপের মুখে পড়েছে। তবে কৃষি, শিল্প, সেবা খাত এবং প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক প্রবণতা ও সরকারের নীতিগত পদক্ষেপের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
