

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জাতীয় বেতন স্কেল, ২০০৯ অনুযায়ী বকেয়া সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল প্রাপ্তিতে আইনি জটিলতা নিরসন সত্ত্বেও আমলাতান্ত্রীক দীর্ঘসূত্রতার বেড়াজালে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১২৭০ জন শিক্ষক। এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে ভুক্তভোগী শিক্ষকদের কাছ থেকে।
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকাদের জাতীয় বেতন স্কেল, ২০০৯ অনুযায়ী বকেয়া সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল প্রদানের বিষয়টি দীর্ঘ সময় ধরে চলমান। এ সংক্রান্ত পাওনা আদায়ের দাবিতে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা অতীতে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করেন। হাইকোর্ট শিক্ষকদের দাবির পক্ষে রায় প্রদান করেন এবং পরবর্তী সময়ে আপিল বিভাগও রিট পিটিশনকারীদের দাবির পক্ষে আইনগত ভিত্তি নিশ্চিত করেন।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ (বিচার শাখা-৫) স্পষ্টভাবে তাদের আইনি মতামতে জানিয়েছে যে, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে সরকারের দায়ের করা সিভিল পিটিশন খারিজ হওয়ায় হাইকোর্টের রায় বহাল রয়েছে। জাতীয় বেতন স্কেল, ২০০৯-এর অনুচ্ছেদ ৭(২) ও ৭(৯) অনুযায়ী শিক্ষকদের বকেয়া পাওনা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা নেই।
আইন মন্ত্রণালয় স্পষ্টতই উল্লেখ করেছে যে, উচ্চ আদালতের নির্দেশনার আলোকে ১২৭০ জন শিক্ষকের বকেয়া সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল প্রদানের পথে কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা নেই।
আইন মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট ও ইতিবাচক আইনি মতামত পাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ) শিক্ষকদের পাওনা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি করছে।
বিষয়টি পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, শিক্ষকদের এই পাওনা নির্ধারণের জন্য বারবার ‘বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি’র সভা ডাকা হলেও তা বারবার স্থগিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট নথিপত্র অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের সভার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অপর একটি নোটিশের মাধ্যমে ৩ ফেব্রুয়ারির সভাটি ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে একটি ‘সভার স্থগিত নোটিশ’ প্রদান করা হয়, যেখানে সভাটি অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
যেখানে আইন মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে রায় বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছে, সেখানে শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রাপ্যতা থাকা সত্ত্বেও বারবার সভার তারিখ পরিবর্তন করা শিক্ষকদের চরম হয়রানির শামিল বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন।
বঞ্চনার অভিযোগ করে একজন শিক্ষক নেতা বলেন, সভার তারিখ বারবার পিছিয়ে দেওয়া বা স্থগিত করার বিষয়টি শিক্ষকদের মনে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি করছে। এটি এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে যেখানে প্রশাসনিক গড়িমসির কারণে শিক্ষকরা তাদের আইনসম্মত অধিকার থেকে দীর্ঘ সময় বঞ্চিত থাকছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
সভার নোটিশ জারি করার পর বারবার স্থগিত করার পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট ও যুক্তিসঙ্গত কারণ উল্লেখ করা হচ্ছে না, যা আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
আইন মন্ত্রণালয়ের আইনগত মতামত পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির উচিত ছিল দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে শিক্ষকদের পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করা। বারবার সভার তারিখ পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি শিক্ষকদের পাওনা প্রাপ্তির পথকে দীর্ঘায়িত করছে এবং তাদেরকে অযৌক্তিকভাবে বঞ্চিত করছে। এতে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে ।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অবিলম্বে সভার তারিখ পুনরায় নির্ধারণ করে এবং কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শিক্ষকদের পাওনা বকেয়া পরিশোধের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সমিতির নেতা আঃ সালাম জানান,আমাদের পাওনা পরিশোধে সকল আইনি জটিলতা দূর হওয়ার পরও অজ্ঞাত কারনে ডি পি সির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার অজুহাতে আমলা তান্ত্রিক জটিলতার কারণে আমরা বঞ্চিত।
এমন অবস্থায় দ্রুত একটি ডিপিসির মিটিং এর আয়োজন করে তাদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য ডিপিসির সভাপতি শিক্ষা সচিব ( মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান ভুক্তভোগী শিক্ষক নেতা আঃ.সালাম।
শিক্ষা মন্ত্রমালয়ের বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভাপতি শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেক এর নিকট প্রতিবেদক এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে তার মুঠোফোনে বার বার কল করেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।