

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


লালমনিরহাটের আদিতমারীতে নিখোঁজ হওয়ার পর শিশু নন্দিনী রানীর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ও প্রশাসনিক তৎপরতা তৈরি হয়েছে।
গত ১৬ জুন (মঙ্গলবার) সকালে আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে ৭ বছরের এই শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, বিধান চন্দ্র নামে এক মাদকাসক্ত ব্যক্তি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধারের পর অভিযুক্তকে গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে স্থানীয় জনতা প্রচণ্ড বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে জনতা পুলিশের ওপর চড়াও হয় এবং অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও ওসিসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রায় ৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
এই মব বা জনতা কর্তৃক ডিসির গাড়িসহ মোট ৭টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার সকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নে নিহত নন্দিনীর পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেন। সংসদ চলমান থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং নিজস্ব বোধ ও তাগিদ থেকে তিনি লালমনিরহাটের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান ও রোকন উদ্দিন বাবুলকে সাথে নিয়ে সেখানে ছুটে যান।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী এই হত্যাকাণ্ডকে "নিষ্ঠুর, নির্মম ও নৃশংস" এবং "বর্বরোচিত" বলে আখ্যা দেন। তিনি জানান:
প্রশাসন ইতোমধ্যে মূল হত্যাকারীকে গ্রেফতার করেছে এবং আসামী হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার স্বীকারোক্তি দিয়েছে। বর্তমান সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ এবং এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের ন্যায় বিচার নিশ্চিতে সকল পদক্ষেপ নেয়া হবে।
যারা মব সৃষ্টি করে ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা করেছেন, ডিসিসহ জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের গাড়িতে আগুন দিয়েছেন এবং জনমনে ত্রাশ ও ভীতির সঞ্চার করেছেন, তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
নন্দিনীর পরিবারের সাথে এই সাক্ষাৎকালে মন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, একেএম মোমিনুল হকসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
