

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজশাহীতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তিত্বকে নিয়ে প্রকাশিত কিছু বইকে কেন্দ্র করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) দুপুরে রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থান করা ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের একটি গাড়িতে এসব বই দেখতে পান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে তারা বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর করতে গাড়িটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে যান।
খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রন্থাগারের বইগুলো পরিদর্শন করেন। পর্যালোচনা শেষে সংশ্লিষ্ট বইগুলো সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।
জানা গেছে, জেলা প্রশাসকের নির্দেশের পর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের রাজশাহী ইউনিটের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা জমা দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, বিতর্কিত হিসেবে চিহ্নিত বইগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলা হবে এবং ভবিষ্যতে সেগুলো আর পাঠকদের জন্য প্রদর্শন বা বিতরণ করা হবে না।
অঙ্গীকারনামায় তিনি এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন বলেও জানা গেছে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার প্রকল্পটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বই পড়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গ্রন্থাগারের গাড়িটি রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থান করছিল। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বইগুলো দেখে আপত্তি তোলেন। পরে মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক লিমনের নেতৃত্বে গাড়িটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে জেলা প্রশাসককে বইগুলো দেখানো হয় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
ছাত্রদল নেতা এমদাদুল হক লিমন বলেন, গ্রন্থাগারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে লেখা বই পাওয়া গেছে। ফ্যাসিবাদের পতনের পরও এসব বই পাঠকদের কাছে পৌঁছানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, এসব বই নিষিদ্ধ কিনা, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই সিদ্ধান্ত দেবে। তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের বই সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলেও রাজশাহীতে তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান এই ছাত্রদল নেতা।
অন্যদিকে, ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গ্রন্থাগারে বিভিন্ন ধরনের বইয়ের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রকাশিত কিছু বইও রয়ে গিয়েছিল, যা অনাকাঙ্খিত। তিনি জানান, ইতোমধ্যে লিখিতভাবে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যে, এসব বই আর কোনো কার্যক্রমে বহন বা প্রদর্শন করা হবে না।
জাহাঙ্গীর আলমের ভাষ্য, প্রকল্পটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার কারণে গাড়িটি প্রধান কার্যালয়ে ছিল। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বইগুলো সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সংরক্ষণের উপযুক্ত স্থান না থাকায় সেগুলো গাড়িতেই রাখা হয়েছিল।
জাহাঙ্গীর দাবি করেন, বইগুলো আড়ালে রাখা হয়েছিল যাতে পাঠকদের নজরে না আসে। তবে কিছু পাঠক খুঁজে বের করে বইগুলো বাইরে রাখায় বিষয়টি সামনে আসে।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিষয়টি তাদের নজরে এনেছেন এবং তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।
