সোমবার
০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলন শুরু আজ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৬, ১০:২৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) মহাপরিচালক পর্যায়ের চার দিনব্যাপী সীমান্ত সম্মেলন শুরু হচ্ছে আজ সোমবার (৮ জুন)। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিএনপি সরকারের আমলে এটাই প্রথম সীমান্ত সম্মেলন।

ডিজি পর্যায়ের এবারের সীমান্ত সম্মেলনে বিজিবির মূল এজেন্ডাই থাকবে সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন। এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট তথ্য তুলে ধরে কড়া প্রতিবাদ জানানো হবে। পাশাপাশি বিএসএফ কর্তৃক আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য তুলে ধরা হবে

সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ‘পুশ-ইন’ ইস্যু। কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ নারী-শিশুসহ বহু মানুষকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তৎপরতায় একের পর এক পুশ-ইনের অবৈধ চেষ্টা ব্যর্থ হলেও ঘটনাগুলো দুদেশের সম্পর্ক, সীমান্ত নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন করে বিএসএফ কর্তৃক সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন ও আকাশসীমা লঙ্ঘন করে সীমান্তে ড্রোন-হেলিকপ্টার ব্যবহারের কারণে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা ক্রমশই বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে এবারের সীমান্ত সম্মেলন থেকে নয়াদিল্লিকে কড়া বার্তা দিতে চায় বিজিবি।

বিজিবি সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক প্রত্যেকটি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের ঘটনা ও অপরাধমূলক কার্যক্রমের ফিরিস্তি তুলে ধরা হবে এবারের সীমান্ত সম্মেলনে।

এ ব্যাপারে বিজিবি সদর দপ্তরের উপ-মহাপরিচালক (মিডিয়া) কর্নেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ আজম বলেন, ডিজি পর্যায়ের এবারের সীমান্ত সম্মেলনে বিজিবির মূল এজেন্ডাই থাকবে সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন। এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট তথ্য তুলে ধরে কড়া প্রতিবাদ জানানো হবে। পাশাপাশি বিএসএফ কর্তৃক আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য তুলে ধরা হবে।

তিনি বলেন, এছাড়াও আকাশসীমা লঙ্ঘন করে ভারতের ড্রোন-হেলিকপ্টার ব্যবহার, মাদকসহ চোরাচালান, অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপন, স্থায়ী সীমান্ত পিলার স্থাপন এবং আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতা বন্ধসহ গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা বৈঠকে তুলে ধরবে বিজিবি। থাকবে ভারতীয় গণমাধ্যমে সীমান্তকেন্দ্রিক উসকানিমূলক মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদও।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পুশ-ইন ইস্যু এখন শুধু সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয় নয়; এটি মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন, কূটনীতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। আর সেই কারণেই সীমান্তের জিরো লাইনে আটকে থাকা কয়েকশ মানুষের গল্প এখন দুদেশের সম্পর্কের একটি বড় পরীক্ষায় রূপ নিয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন