

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মৃত্যুদণ্ড বা ফাঁসির আদেশ দেওয়ার পরে বিচারক বা বিচারপতিরা কলমের নিব ভেঙে ফেলেন। এটি কোনো আইনের বিষয় নয়। বরং ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা একটি প্রতীকী ঐতিহ্য।
নিব ভেঙে ফেলার মূল কারণ হলো শাস্তির চূড়ান্ততা ও গুরুত্ব প্রকাশ করা। সেই সঙ্গে বিচারকের নিজের অপরাধবোধ কমানোর চেষ্টাও এটি।
কলমের নিব ভাঙার পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ কাজ করে-
রায়ের অপরিবর্তনীয়তা
একবার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ লিখে তাতে স্বাক্ষর করার পর বিচারকের সেই রায় পরিবর্তন বা বাতিল করার আর কোনো আইনি ক্ষমতা থাকে না। কলমের নিব ভেঙে ফেলার মাধ্যমে মূলত এটিই বার্তা দেওয়া হয় যে, এই রায় চূড়ান্ত এবং এর কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়।
প্রতীকী অনুশোচনা
যেহেতু বিচারক নিজেই একজন মানুষের জীবনাবসানের আদেশ দেন, তাই রায়টি লেখার পর তিনি প্রতীকীভাবে দুঃখপ্রকাশ করেন। যে কলমটি দিয়ে একজন মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হলো, তা যেন আর কোনোদিন দ্বিতীয়বার এমন জঘন্য কাজে ব্যবহার না হয়—এটাই এর মূল দর্শন।
মানসিক মুক্তি
বিচারকরা কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে নয়, বরং পেশাগত ও আইনি দায়িত্ববোধ থেকেই মৃত্যুদণ্ড দিয়ে থাকেন। নিজের দেওয়া এই কঠোর রায় থেকে উদ্ভূত মানসিক অপরাধবোধ বা অনুশোচনা থেকে নিজেকে কিছুটা দূরে রাখতে বিচারকরা কলমের নিবটি ভেঙে ফেলেন।
তবে প্রচলিত আইন বা দণ্ডবিধিতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়ার পর কলমের নিব ভেঙে ফেলার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এটি সম্পূর্ণই বিচারকের ব্যক্তিগত ইচ্ছা এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বিশেষ করে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এই প্রতীকী প্রথা পালন বেশি দেখা যায়।
