

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঘন ঘন এসি অন এবং অফ করলে এসির বেশ কিছু ক্ষতি বা সমস্যা হতে পারে। অনেকেই ঘরের তাপমাত্রা একটু কমে গেলেই এসি বন্ধ করে দেন, আবার গরম লাগলে চালু করেন এই অভ্যাসটি এসির দীর্ঘস্থায়ীত্বের জন্য মোটেও ভালো নয়।
এর প্রধান কারণ এবং সমস্যাগুলো হলো-
কম্প্রেসরের ওপর অতিরিক্ত চাপ
এসির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যয়বহুল অংশ হলো এর কম্প্রেসর। এসি যখন প্রথম চালু হয়, তখন কম্প্রেসরকে অনেক বেশি বিদ্যুৎ এবং শক্তি নিয়ে কাজ শুরু করতে হয়। আপনি যদি বারবার এটি অন-অফ করেন, তবে কম্প্রেসরের ওপর মারাত্মক চাপ পড়ে। এতে কম্প্রেসর দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়া
অনেকে মনে করেন এসি বন্ধ রাখলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়, কিন্তু বারবার অন-অফ করলে উল্টো ঘটনা ঘটে। এসি চালু হওয়ার মুহূর্তটিতে (Starting current) স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে। তাই বারবার অন-অফ করলে আপনার বিদ্যুৎ বিল কমার চেয়ে উল্টো বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
ঘরের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ না হওয়া
এসি কেবল ঘর ঠাণ্ডাই করে না, ঘরের ভেতরের ভ্যাপসা ভাব বা আর্দ্রতাও দূর করে। এসি চালু করার পর ঘরের আর্দ্রতা পুরোপুরি নিয়তণ হতে কিছুটা সময় লাগে। কিন্তু এটি বারবার বন্ধ আর চালু করলে এসি তার আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণের কাজটি ঠিকমতো করতে পারে না, ফলে ঘরে একটা অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
ফিউজ বা সার্কিট ব্রেকারের ক্ষতি
বারবার এসি অন-অফ করার ফলে ঘরের ইলেকট্রনিক লাইনে হঠাত বিদ্যুতের ভোল্টেজ ওঠানামা (Surge) করতে পারে। এতে এসির ভেতরের সার্কিট, ফিউজ বা ঘরের মেইন সুইচের ক্ষতি হতে পারে।
করণীয়-
আপনার এসি যদি ইনভার্টার প্রযুক্তির হয়, তবে সেটি ঘরের তাপমাত্রা নির্দিষ্ট সীমায় পৌঁছানোর পর নিজে থেকেই কম্প্রেসরের গতি কমিয়ে দেয়, পুরোপুরি বন্ধ হয় না। তাই ইনভার্টার এসি বারবার অন-অফ করার কোনো প্রয়োজনই নেই।
রাতে ঘুমানোর সময় মনে হয় মাঝরাতে যদি ঠাণ্ডা বেশি হয়ে যাবে, তবে রিমোট থেকে Timer বা Sleep Mode সেট করে রাখুন। এতে এসি নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে বা তাপমাত্রা কিছুটা বাড়িয়ে দেবে। এসি সবসময় ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে চালিয়ে রাখা সবচেয়ে ভালো। এতে ঘর আরামদায়কভাবে ঠাণ্ডা থাকে এবং কম্প্রেসরের ওপরও বাড়তি চাপ পড়ে না।
