রবিবার
০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কারা বেশি ক্যান্সার আক্রান্ত হন বিবাহিত নাকি অবিবাহিতরা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম আপডেট : ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম
এনপিবি কোলাজ
expand
এনপিবি কোলাজ

ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির ক্ষেত্রে বিবাহিত এবং অবিবাহিতদের মধ্যে বেশ কিছু আকর্ষণীয় পার্থক্য গবেষকদের নজরে এসেছে। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাধারণত অবিবাহিত ব্যক্তিদের তুলনায় বিবাহিত ব্যক্তিদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়া এবং এর কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি কিছুটা কম থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলার স্কুল অব মেডিসিনের এক গবেষণায় দেখা যায়, বিবাহিত পুরুষদের চেয়ে অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ৭০% এবং বিবাহিত নারীদের চেয়ে অবিবাহিত নারীদের ঝুঁকি প্রায় ৮৫% বেশি।

তবে বিষয়টি সরাসরি এমন নয় যে বিয়ে করলেই ক্যান্সার প্রতিরোধ হয়। এর পেছনে কিছু সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং জীবনযাত্রাগত কারণ রয়েছে।

কেন বিবাহিতদের ঝুঁকি কিছুটা কম থাকে?

বিবাহিত জীবনে সাধারণত সঙ্গীর কারণে শরীরের যেকোনো পরিবর্তন বা অসুস্থতা দ্রুত নজরে আসে। ফলে তারা দ্রুত ডাক্তারের কাছে যান এবং প্রাথমিক পর্যায়েই ক্যান্সার ধরা পড়ার সম্ভাবনা বাড়ে। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু হলে সুস্থ হওয়ার হারও অনেক বেশি থাকে।

ক্যান্সারের মতো রোগের সাথে লড়াই করতে শক্তিশালী মানসিক সমর্থনের প্রয়োজন হয়। বিবাহিত ব্যক্তিরা তাদের সঙ্গীর কাছ থেকে যে মানসিক ও যত্নজনিত সহায়তা পান, তা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং চিকিৎসায় ইতিবাচক সাড়া দিতে সাহায্য করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বিবাহিত ব্যক্তিরা সাধারণত একাকী মানুষদের তুলনায় বেশি সুষম খাবার খান এবং তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাপন (যেমন অতিরিক্ত ধূমপান বা মদ্যপান না করা) করেন।

অবিবাহিতদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি কোথায়?

দীর্ঘমেয়াদী একাকীত্ব বা একাকী থাকার মানসিক চাপ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দিতে পারে, যা পরোক্ষভাবে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

একাকী থাকার কারণে শরীরের কোনো সমস্যা অবহেলা করার প্রবণতা বেশি থাকে। অনেক সময় রোগটি বেশ জটিল আকার ধারণ করার পর চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন তারা।

বিবাহিত বা অবিবাহিত হওয়া কোনো সরাসরি কারণ নয়, বরং এর সাথে জড়িত জীবনযাপন পদ্ধতি এবং মানসিক সুস্থতাই মূল ভূমিকা পালন করে। একজন অবিবাহিত ব্যক্তিও যদি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করেন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান এবং বন্ধুবান্ধব বা পরিবারের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন, তবে তিনিও সুস্থ ও ঝুঁকিমুক্ত থাকতে পারেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন