

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশের বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর আসছে। চাকরির নিরাপত্তা, ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা এবং কর্মপরিবেশ উন্নত করতে যুগোপযোগী ও সমন্বিত ‘বেসরকারি সার্ভিস রুলস’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
চাকরির নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতন-ভাতা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, কর্মঘণ্টা ও চাকরিচ্যুতির মতো বিষয়গুলো স্পষ্ট নীতিমালার আওতায় আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ লক্ষ্যে গত ১০ মে সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকের সভাপতিত্বে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, ব্যবসায়ী সংগঠন, চেম্বার এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের মতামত নিয়ে একটি সমন্বিত বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই সার্ভিস রুলসে বেসরকারি চাকরিজীবীদের কর্মপরিবেশ ও অধিকার সুরক্ষায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ, নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট, বিভিন্ন ধরনের ভাতা, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, ছুটি, পদোন্নতি, আচরণবিধি, শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা, চাকরির স্থায়িত্ব, চাকরিচ্যুতির নীতিমালা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বিষয়।
এ ছাড়া নারী কর্মীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাকরির সুযোগ বৃদ্ধি, শিশুশ্রম প্রতিরোধ এবং কর্মক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সবার মতামতের ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬’ এবং ‘বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা-২০১৫’-এ প্রয়োজনীয় সংশোধন বা নতুন সংযোজন আনা হতে পারে। এ কাজ তদারকির জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিধি অনুবিভাগ) মোস্তফা জামানের নেতৃত্বে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
মোস্তফা জামান বলেন, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং বেসরকারি চাকরিজীবীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান নিজেদের সুবিধামতো কর্মী ছাঁটাই করে এবং বয়স বাড়লে কর্মীদের চাকরিতে রাখতে চায় না। পাশাপাশি অনেক নারী কর্মী আইন অনুযায়ী মাতৃত্বকালীন সুবিধাও পান না। এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর নীতিমালা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও জানান, নতুন বিধিমালা বাস্তবায়নের দায়িত্ব শ্রম মন্ত্রণালয়ের ওপর দেওয়া হতে পারে। কারণ শ্রম আদালত ও ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীরা প্রতিকার চাইতে পারবেন।
শ্রম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও মনে করছেন, বিদ্যমান শ্রম আইন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে সেগুলোর সঠিক প্রয়োগ হয় না। ফলে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইন ও বিধিমালা হালনাগাদের প্রয়োজন রয়েছে।
বিশেষ করে অনলাইন প্ল্যাটফর্মভিত্তিক কর্মসংস্থান নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। উবার, পাঠাও কিংবা ফুডপান্ডার মতো প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের জন্যও ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট সার্ভিস রুলস আনার চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের বিপুলসংখ্যক বেসরকারি চাকরিজীবী দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট চাকরিনীতির বাইরে কাজ করছেন। ফলে চাকরির নিরাপত্তা, বেতন-ভাতা কিংবা অবসরের সুবিধা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। নতুন নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে এ পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
তবে ব্যবসায়ী মহলের একটি অংশ মনে করছে, বেসরকারি খাতের কাঠামো অনেক বৈচিত্র্যময় হওয়ায় সবার জন্য অভিন্ন সার্ভিস রুলস তৈরি করা সহজ হবে না। তারপরও একটি সমন্বিত নীতিমালা কর্মক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দিয়েছেন তারা।
