

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আরব্য রজনীর গল্পের আলাদিনের চেরাগের কাহিনির পুনরাবৃত্তি ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ঘটেছে বহুবার। ক্ষমতাধর ব্যক্তি ও তার আশপাশের মানুষের শূন্য থেকে কোটিপতি হওয়ার অভিযোগ প্রায়ই পাওয়া যায়। এবার এমনই এক কোটিপতির চমকপ্রদ তথ্য পেয়েছে এনপিবি নিউজ।
তথ্যটি সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের ভাই মো. রিয়াজুল ইসলামের। যিনি ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রাইভেট কার চালক থেকে বনে গেছেন কোটিপতি। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দেয়া সম্পদ বিবরণী থেকে এমনই তথ্য পাওয়া গেছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দুদকে সম্পদ বিবরণী জমা দিয়েছেন রিয়াজুল, সেখানেই ওঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ৫ আগস্টের পর খোলা ট্যাক্স ফাইল অনুযায়ী তিনি প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার মালিক। গুঞ্জন রয়েছে, উপদেষ্টার এপিএস থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মোয়াজ্জেম তার ভাই রিয়াজুল ইসলামকে অর্থের মালিক বানিয়েছেন।
দাখিল করা ওই সম্পদ বিবরণীতে বলা হয়, রিয়াজুল ইসলাম ২০২৫ সালের ৮ আগস্ট ডাচ বাংলা ব্যাংকের রাজধানীর শ্যামলী শাখায় ৪ লাখ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট রিসিপ্ট (এফডিআর) করেন। এর দুদিন পর একই শাখায় ১৭ লাখ টাকার আরেকটি এফডিআর করেন তিনি।
এদিকে ২০২৩ সাল থেকে নিজের প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো-গ-৩১৫২৯৮) চালান রিয়াজুল। তবে ২০২৪ সালের নভেম্বরে স্ত্রী শান্তি খাতুনের নামে প্রায় ৪৪ লাখ টাকা দামের মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো-চ-১২-৬৮-৯৭) ক্রয় করেছেন তিনি। গাড়ি চালক রিয়াজুল তার ব্যবসায়িক মূলধন দেখিয়েছেন ৯৬ লাখ টাকা। এছাড়া, পূর্বের একটি জীবন বিমা ও সামগ্রিক আসবাবপত্রসহ ৪ লাখ টাকার মালিক তিনি।
এ বিষয়ে সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম বলেন, 'আমার ভাইয়ের (রিয়াজুল) ট্যাক্স ফাইল ওপেন করার সময় তথ্যগত ভুল হয়েছে। উকিল ভুল করেছে। আর আমার ভাই টাকা ধার নিয়ে একটি ডিপিএস করেছেন। যার মাধ্যমে ঋণ নিয়েছে সে। দুদকের সঙ্গে আমরা এ বিষয়ে যোগাযোগ করেছিলাম, তারা (দুদক) বলেছে নতুন কমিশন আসলে আপনারা তথ্য সংশোধন করে আবেদন দিতে পারবেন।' এদিকে স্ত্রীর নামে মাইক্রোবাস কেনার কথা জানিয়ে রিয়াজুল ইসলাম বলেন, '৫ আগস্টের পর টাকা নিয়েছি এমন কোনো তথ্য নেই। ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার একটা এফডিআর রয়েছে, যার বিপরীতে ১৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকার ব্যাংক ঋণ রয়েছে।' ব্যবসায়িক মূলধন ৯৬ লাখ টাকা দেখানোর কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, 'ভবিষ্যতে ব্যাংক ঋণ নেয়ার জন্য এই তথ্য যোগ করেছিলাম। কিন্তু আমার ৯৬ লাখ টাকা আগেও ছিলো না, এখনও নেই।'
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম জানান, সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেমের ভাই রিয়াজুল ইসলামের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধান সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিবে দুদক।
উল্লেখ্য যে, শত শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে সাবেক এপিএস মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে। গত ৩০ মার্চ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) আবেদনের প্রেক্ষিতে মোয়াজ্জেমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। বর্তমানে এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।
