

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তাকে সকালে মহাব্যবস্থাপক (জিএম) থেকে নির্বাহী পরিচালক (ইডি) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এরপর বিকেল গড়াতেই সেই আদেশ রহস্যজনকভাবে বাতিল করে কর্তৃপক্ষ। একদিনের মাথায় পরদিন তাকে চাকরি থেকেই বরখাস্ত করা হয়।
পদোন্নতি পাওয়া ওই কর্মকর্তার নাম মো. মিজানুর রশীদ। তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক ও ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সোমবার (১৮ মে) সকাল থেকে মঙ্গলবার (১৯ মে) এক দিনের মধ্যে ঘটে এ ঘটনা।
মিজানুর রশীদের পদ ছিল মহাব্যবস্থাপক। তবে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির। তিনি অদৃশ্য ক্ষমতা বলে রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থাটির অর্থ পরিদপ্তর আর প্রশাসন ও মানবসম্পদ পরিদপ্তররের মতো গুরুত্বপূর্ণ শাখার ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সোমবার তাকে সেই পদ থেকে পরিচালকের পদে পদোন্নতি দেয়া হয়।
এ নিয়ে বিমানের কেন্দ্রীয় কার্যালয় বলাকায় সমালোচনা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত সেই পদোন্নতি আদেশ বাতিলের পর মঙ্গলবার তাকে সাসপেন্ড করে বিমান কর্তৃপক্ষ।
বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমদের সই করা সাময়িক বরখাস্তের আদেশে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ বিমান করপোরেশন এমপ্লয়িজ (সার্ভিস) রেগুলেশন্স, ১৯৭৯ এর অনুচ্ছেদ ৫৮-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আপনাকে (মোহাম্মদ মিজানুর রশীদ) আগামী ২০ মে ২০২৬ খ্রি. তারিখ থেকে সাময়িক বরখাস্ত (Suspension) করা হলো।’ এতে আরও বলা হয়, ‘সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে আপনি বিধি মোতাবেক খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন এবং আপনি আপনার বর্তমান ঠিকানায় অবস্থান করবেন।’
এর আগে গত সোমবার সকালে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগ থেকে মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) খন্দকার বাকী উদ্দিন আহম্মদের সই করা এক আদেশে মিজানুর রশীদকে পদোন্নতির কথা জানানো হয়। তবে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কর্মকর্তারা এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলে ওই দিন বিকেলে একই বিভাগ থেকে তার পদোন্নতি আদেশ বাতিল হয়।
বিমানের একাধিক সূত্র জানায়, সরকারি অর্থে সফটওয়্যার কেনায় প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিভাগীয় মামলার মুখোমুখি হয়েছিলেন মো. মিজানুর রশীদ। যদিও পরবর্তী সময়ে তিনি সেই মামলা থেকে অব্যাহতি পান, তবে বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এখনো অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, গত ৪ মার্চ মহাব্যবস্থাপক (যানবাহন) পদে থাকাকালীন তাঁকে বদলি করে অর্থ ও হিসাব বিভাগে নেওয়া হয়। পরদিনই তাঁকে আবার প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁকে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব এবং অর্থ বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বও দেওয়া হয়, যা মহাব্যবস্থাপকের চেয়ে উচ্চ পদ।
হঠাৎ পদোন্নতি এবং তা বাতিলের বিষয়ে জানতে বিমান কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
