

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


লন্ডনে চলমান বিশ্ব শিক্ষা ফোরাম - ২০২৬ এর সাইডলাইনে বাংলাদেশের শিক্ষা উপদেষ্টা এ এন এম এহসানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন মিশরের শিক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ আহমেদ আবদেল লতিফের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।
সোমবার (১৮ মে) যুক্তরাজ্যের লন্ডনস্থ কুইন এলিজাবেথ-২ সেন্টারে দ্বি পাক্ষিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বৈঠকে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা ব্যাপক পরিসরে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, আধুনিক পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষা খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।
বৈঠকে বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। করোনা-পরবর্তী সময়ে মিশরের প্রাক-বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ৮০%-এর ওপরে নিয়ে যাওয়ার সফল কৌশল তুলে ধরেন তাদের শিক্ষামন্ত্রী। তারা মূলত প্রশাসনিক জবাবদিহিতা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর সামাজিক আস্থা ফিরিয়ে এনে এই সাফল্য পেয়েছেন।
বাংলাদেশও বর্তমানে জিপিএ-৫ কেন্দ্রিক মুখস্থ বিদ্যার বৃত্ত থেকে বের হয়ে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ নাগরিক তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (PEDP-5)-র মতো মেগা প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে এই রূপান্তর গতিশীল করা হচ্ছে বলে শিক্ষা মন্ত্রী জানান।
এ বৈঠকে পাঠ্যক্রম সংস্কার ও পরীক্ষা পদ্ধতি আধুনিকীকরণ নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় দেশই বর্তমানে তাদের শিক্ষাক্রম থেকে মুখস্থ নির্ভরতা কমিয়ে যোগ্যতা-ভিত্তিক শিক্ষায় রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে জানানো হয়।
মিশর তাদের নতুন 'মিশরীয় ব্যাকালোরেট' প্রোগ্রাম চালুর অভিজ্ঞতা শেয়ার করে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দৈনিক ধারাবাহিক মূল্যায়ন পদ্ধতি, প্রযুক্তিগত সংস্কার (যেমন সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ) এবং সাধারণ একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত না করে প্রতি উপজেলায় ডেডিকেটেড 'মাল্টিপারপাস পরীক্ষা কেন্দ্র' প্রতিষ্ঠার উদ্যোগগুলো তুলে ধরা হয়।
শিক্ষক সংকট মোকাবেলা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ে দক্ষ শিক্ষকের ঘাটতি পূরণ এবং শিক্ষকদের মানোন্নয়ন ছিল আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়।
মিশরের শিক্ষামন্ত্রী জানান, তারা দ্রুততম সময়ে শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষকদের সুষম বণ্টন এবং বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মূল বিষয়গুলোর শিক্ষক সংকট দূর করতে সক্ষম হয়েছেন।
বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল জানায়, পি ই ডি পি -৫ -এর আওতায় শিক্ষকদের ইংরেজি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সাময়িক ঘাটতি মেটাতে অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়ে একটি বিশেষ 'পুল' গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
এই বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে 'সাউথ-সাউথ কো-অপারেশন' বা দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।
দুই দেশের বিশাল যুবসমাজকে বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তুলতে এই অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং যৌথ কৌশল অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট নীতি-নির্ধারকেরা।
