

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গত দুই-তিন দিন ধরে একটি মেয়েকে তুলে নেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে নানা আলোচনা দেখছি। ব্যস্ততার কারণে কিছু লিখতে পারিনি। সেই সকাল থেকে শুরু করি- কোনো দিন ৯টা-১০টা, গতকাল তো ২টায় শেষ করেছি।
কিন্তু এ ঘটনায় আমার প্রিয় সহকর্মীদের সব নিউজ পড়া বা দেখা হয়নি। সম্ভবত শুক্রবার সার্চ করেছিলাম একটা অনলাইন ছাড়া আর কোথাও নিউজ চোখে পড়েনি।
তবে ফেসবুকে ঘুরে বেড়ানো কিছু লেখা দেখে মনে হলো অনেকেই যেন চাইছেন ঘটনাটি ‘সাজানো’ প্রমাণিত হোক! আর মেয়েটির মৌলভী বাবা ‘মিথ্যাবাদী’ সাব্যস্ত হলেই আমরা হাত তালি দিতে পারবো।
যারা কোর্ট ম্যারেজ, প্রেমসহ নানা যুক্তি তুলে ধরছেন তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এড়িয়ে যাচ্ছেন। বিয়ে করা স্ত্রী হলেও, দরজা ভেঙে কাউকে তুলে নেওয়াটা কি স্বাভাবিক?
সমাজে বিয়ের স্বীকৃত রীতিনীতি রয়েছে। বাবার ঘরের দরজা ভেঙে মেয়েকে তুলে নেওয়ার কি সভ্য সমাজ সমর্থন করে?
বিয়ে বা প্রেমের ঘটনা পুরোপুরি সত্যি হয়ে থাকলেও এখানে মেয়ে এবং তার পরিবার ভিকটিম। আমি মনে করি তাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। প্রচলিত আইন, নারীর সংবেদনশীলতার বিষয় উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এ ধরনের ঘটনাকে উৎসাহ দিলে সামাজিক অস্থিরতা ও ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি হবে।
বলতেই হয় মেয়েটির ভাগ্য মন্দ। সে যদি কোনো মৌলভীর ঘরে জন্ম না নিত তাহলে কি আমাদের ভাষা, দৃষ্টিভঙ্গি আর অবস্থান একই থাকত? নাকি মৌলভীর মেয়ের জন্য সাংবাদিকতার আলাদা কোনো নীতি আছে?
এমন পক্ষপাতিত্বের কারণে সাংবাদিকতার জায়গাটা ধীরে ধীরে মানুষের কাছে অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে।
একটা উদাহরণ দিয়ে শেষ করি-
শনিবার (১৮ এপ্রিল) শেষ হলো আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব নির্বাচন। নির্বাচনের দুই/তিন দিন আগে একজন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে নিয়ে কয়েকটা জায়গায় নিউজ হলো। তিনি ছাড়া আর কারও বিরুদ্ধে নিউজ দেখিনি।
নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেল, যার বিরুদ্ধে নিউজ করা হলো- তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করলেন। শুধু তাই নয়, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব পদেই তার প্যানেলের সদস্যরা জয়ী হয়েছেন।
তার মানে হলো, মানুষ 'হলুদ নিউজ' বিশ্বাস করে না। গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যমূলক সংবাদে মানুষ আস্থা রাখছে না। বিকল্প পদ্ধতিতে খবর জেনে নিচ্ছে। এটা সাংবাদিকতা পেশার জন্য অশনিসংকেত কি না জানি না।
লেখক: সিনিয়র রিপোর্টার, দৈনিক দেশ রূপান্তর।
মন্তব্য করুন