বৃহস্পতিবার
২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মজুদ বাড়াতে বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি তেল কেনা হচ্ছে

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সভা
এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬, ১১:১৩ এএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
expand
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের এক মাসের মজুদ রয়েছে। মজুদ বাড়াতে বিভিন্ন উৎস থেকে আরো জ্বালানি তেল কেনা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জ্বালানি তেল নিয়ে বিশেষ সভা ও মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি। গতকাল সচিবালয়ে সভা দুটি অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত পাঁচটি অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর করার বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়। এগুলো জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে।

মার্কিন-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এতে বাংলাদেশেও জ্বালানি তেলের পরিস্থিতি দিন দিন নাজুক হচ্ছে।

সাধারণ মানুষের জীবনযাপনে জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তাই দ্রুত এর সমাধান করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জরুরি বিশেষ সভা করেন। গতকাল সকাল ৯টা ২ মিনিটে তিনি সচিবালয়ে আসেন এবং তাঁর কিছু দাপ্তরিক কাজ সারেন। এরপর মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।

পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ দপ্তরে তিনি ‘জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবেলায় করণীয়’ নিয়ে সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, “আমাদের এর আগে সাধারণত ১৫ দিনের মজুদ থাকত। এখন পর্যন্ত আমাদের এক মাসের মজুদ রয়েছে। এখন অনেকটা ‘প্যানিক বায়িং’ হচ্ছে। অতিরিক্ত কিনলে তো এগুলো নষ্ট হবে মনে হয়। হচ্ছেও কিছুটা। মানুষের মধ্যে আস্থা ফেরত এলে এটা হয়তো কয়েক দিন পরেই কেটে যাবে। সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে আগামী দিনে এই মজুদ আরো বড় করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে আমাদের জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুদ থাকে। যুদ্ধ হলে আমাদের মূলত ধাক্কা আসে জ্বালানি ও সারের ক্ষেত্রে।”

এ মুহূর্তে কত দিনের জ্বালানি তেল রয়েছে এবং কোন তেলের কত দিনের মজুদ রয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, ‘এখন এক মাসের মতো জ্বালানি আছে। সব তেলেরই আছে। একটা প্রপোরশন করে আছে। আমার কাছে হিসাব চাইবেন না। আমি দিতে পারব না।’

এদিন জ্বালানি নিয়ে বিশেষ সভার বাইরেও মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। সেখানে রাজস্ব আদায় সংক্রান্ত অর্থ আইন, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার যে পাঁচ অধ্যাদেশ জারি করেছিল সেগুলো আইন হিসেবে উপস্থাপনের জন্য নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন মিলেছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদসচিব।

তিনি বলেন, এই পাঁচটা আইন অর্থাৎ যে ১৩৩টি অধ্যাদেশ আগের মন্ত্রিসভায় এসেছিল, পাস হয়েছিল তার মধ্যে এই পাঁচটি আইন মোটামুটি একটা ডিসিশন হলো যে আইনে পরিণত হবে। তার জন্য অন্যান্য যে প্রসিডিউরগুলো আছে সেগুলো করা হবে। পরবর্তী সময়ে পার্লামেন্টে উত্থাপন হবে সেগুলোকে আইনে রূপ দিতে। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের অর্থ অধ্যাদেশ যা বাজেটের সময় হয়েছে সেটি; অর্থ আইনের পরে যে সংশোধন হয়েছিল ওই অধ্যাদেশ, গত অর্থবছরের মাঝপথে এসে হঠাৎ করে যেসব পণ্যে ভ্যাট বসায় অন্তর্বর্তী সরকার, ওই মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) সংক্রান্ত। একই সময়ে বিভিন্ন পণ্যে আবগারি শুল্ক বসানো অধ্যাদেশ এবং অর্থ অধ্যাদেশের দ্বিতীয় সংশোধনও আইন হিসেবে গ্রহণের অনুমোদন দেওয়া হয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন