বৃহস্পতিবার
২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজারবাগে হামলা জাতিকে স্বাধীনতার ঘোষণায় বাধ্য করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬, ১১:০৬ এএম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
expand
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পাকহানাদার বাহিনী যদি ২৫ মার্চ কালোরাতে রাজারবাগে হামলা না করতো তাহলে হয়তো স্বাধীনতার ঘোষণা আরও দুয়েক দিন পরে হতে পারত। কিন্তু এই ঘটনা আমাদের জাতিকে বাধ্য করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজারবাগ পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সকাল ৭টায় স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালো রাতে সবচাইতে বেশি শহীদ হয়েছেন এই রাজারবাগে। প্রথম ম্যাসাকার বা গণহত্যাটা শুরু হয়েছে এই রাজাবাগ পুলিশ লাইনে। এখান থেকেই পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ হল এবং অন্যান্য জায়গায় পাক হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরু করে। এটাই হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণার প্রথম ভিত্তি।

তিনি বলেন, পাকহানাদার বাহিনী যদি ২৫ মার্চ কালোরাতে এখানে ওই সময় হামলা না করতো তাহলে হয়তো স্বাধীনতার ঘোষণা আরও দুয়েকদিন পরে হতে পারত। কিন্তু এই ঘটনা আমাদের জাতিকে বাধ্য করেছে।

তিনি স্বাধীনতা ঘোষণার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই গণহত্যার খবর পাওয়ার পরে তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে যাচ্ছিলেন তখনো পর্যন্ত পাকিস্তানি কমান্ডারের হুকুমে। তিনি অবগত হলেন রাজারবাগ পুলিশ লাইন গণহত্যা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আক্রমণ করা শুরু করেছে। সুতরাং এই মুহূর্তে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে হবে। তখনই তিনি মনস্থির করেছেন এবং ষোল শহরে তার নিজস্ব সামরিক বেইজে গিয়ে তার কমান্ডারকে রেস্ট করলেন। পরবর্তীতে তাকে হত্যা করা হয়। বাঙালি অফিসারদের মধ্যে যারা তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের সঙ্গে ছিলেন তাদের নিয়ে তিনি বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন। সেখান থেকেই তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২৭ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি প্রথম প্রভিশনাল হেড অফ দি স্টেট হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে সারা বিশ্বের সমর্থন কামনা করেন এবং তারপরে তৎকালীন জাতীয় নেতা মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবার সংশোধিতভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এটাই প্রকৃত ইতিহাস।

তিনি বলেন, রাজারবাগ পুলিশ লাইনের আমাদের পুলিশ বাহিনীর যে ত্যাগ, যে রক্তদান সেটাই বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধের ঘোষণার সূচনা বলে আমরা জানি। এটাই প্রকৃতি ইতিহাস আজকের এই দিনে সব শহীদদের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাই। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে, স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন, আত্মত্যাগ করেছেন, বিভিন্নভাবে যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন সবাইকে আমরা আজকের এই জাতীয় দিনে স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় দিবসে স্মরণ করি এবং সাভার স্মৃতিশোধে আমরা প্রথমেই তাদের স্মরণে পুষ্পমালা অর্পণ করেছি। প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে পুষ্পমালা অর্পণ করেছেন। তারপর মন্ত্রিপরিষদের সবাই পুষ্পমালা অর্পণ করেছেন। ওখান থেকে আমরা স্বাধীনতার মহান ঘোষক মরহুম রাষ্ট্রপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা অনেক বছর পরে স্বাধীনতা দিবসের মার্চ কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করছি। এটা আমাদের জন্য অনেকটা আনন্দের দিন। বেশ কয়েক বছর বন্ধ ছিল। আশা করি বাংলাদেশের এই গণতান্ত্রিক যাত্রায় জাতীয় জীবনের যে প্রত্যাশা শহীদের আকাঙ্ক্ষা এবং জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আমরা গণতান্ত্রিক চর্চা, নতুনভাবে জাতির প্রত্যাশা অনুযায়ী শুরু করছি। এই চর্চা অব্যাহত থাকবে৷ সব ক্ষেত্রে আমরা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত রাখব।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন