

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকার কেরানীগঞ্জে অবস্থিত কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের সব কারাগারে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে নানা আয়োজন। নতুন পোশাক, বিশেষ খাবার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খেলাধুলার মধ্য দিয়ে চার দেয়ালের ভেতরেই ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেবেন বন্দীরা।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের দিন নামাজ আদায়ের পর বন্দীরা অংশ নেবেন বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে। কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগারে বন্দি সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আমলারা পরিবারের পক্ষ থেকে পাঠানো নতুন পোশাক পেয়েছেন। অন্যদিকে, অসচ্ছল বন্দীদের জন্য কারা অধিদপ্তর ও সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে লুঙ্গি, গেঞ্জি ও পাঞ্জাবি বিতরণ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মামলায় আটক সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অনেকেই এবার প্রথমবারের মতো বিশেষ কারাগারে ঈদ উদযাপন করবেন। এর আগে তারা কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে ঈদ পালন করেছিলেন।
একই কারাগারে থাকা সাবেক আইজিপি ও রাজসাক্ষী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পৃথক কক্ষে রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তাকে ঈদের জামাতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। তিনি নিজেও জামাতে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও গণমাধ্যম) জান্নাত-উল-ফরহাদ জানান, ঈদ উপলক্ষে কারাগারগুলোতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ফুটবল খেলা ও অন্যান্য বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ঈদের দিনসহ তিন দিনের মধ্যে বন্দীরা একদিন স্বজনদের সঙ্গে তিন মিনিট মোবাইলে বিনামূল্যে কথা বলতে পারবেন। একই সময়ে স্বজনদের কাছ থেকে বাসায় রান্না করা খাবার গ্রহণের সুযোগও থাকবে।
দেশের সব কারাগারে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে দুটি এবং কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগারে একটি জামাত আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ওই জামাতে সাবেক মন্ত্রী-এমপিসহ সব বন্দী একসঙ্গে নামাজ আদায় করবেন—যা কারাগারের বাস্তবতায় একটি বিরল ঘটনা।
কারা সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগারে বর্তমানে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানসহ মোট ১২৩ জন বন্দি রয়েছেন।
তবে এই বিশেষ কারাগারে বিনোদনের আয়োজন তুলনামূলক সীমিত। সেখানে কর্মরত কয়েদিদের অংশগ্রহণে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা অন্য বন্দীরা উপভোগ করবেন।
কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক জানান, ঈদ উপলক্ষে দেশের সব কারাগারে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একইসঙ্গে বন্দীদের জন্য উন্নত মানের খাবার, ঈদের জামাত ও বিনোদনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যেও কারাবন্দীদের ঈদ যেন কিছুটা আনন্দমুখর হয়—সেই লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে এসব উদ্যোগ।
মন্তব্য করুন