সোমবার
১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে টানাপোড়েন

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৭:০১ এএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের বৈঠকে সংসদ সদস্যরা।। ছবি: সংগৃহীত
expand
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের বৈঠকে সংসদ সদস্যরা।। ছবি: সংগৃহীত

সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না হওয়া নিয়ে জাতীয় সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, যে জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন আদেশের ভিত্তিতে এই পরিষদের কথা বলা হচ্ছে, সেটি মূলত আরোপিত ও জবরদস্তিমূলক।

রোববার (১৫ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় কার্যদিবসে অনির্ধারিত আলোচনার জন্য দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থাপনের প্রেক্ষাপটে গঠিত বর্তমান সংসদ স্বাভাবিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আসেনি; রাষ্ট্রপতির এক আদেশের মাধ্যমে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ওই আদেশ অনুযায়ী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান করার কথা। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গেলেও এখনো সেই অধিবেশন ডাকা হয়নি। এটিকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, যেভাবে সংসদের অধিবেশন আহ্বান করা হয়, একই পদ্ধতিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশনও আহ্বান করার কথা। বিরোধীদলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুযায়ী সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন সরকারি দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান।

এরপর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদের অধিবেশন না থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। কিন্তু সংবিধানের ধারা পরিবর্তন হবে বা সংবিধান পরিবর্তন হবে, এ রকম কোনো বিষয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে আসতে পারে না, সেটা জায়েজ নয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কিন্তু এই যে আদেশ (জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ), এই আদেশটা না অধ্যাদেশ, না আইন। মাঝামাঝি জিনিস। সেদিন আমি বলেছিলাম, এটা হয়তো নিউট্রাল জেন্ডার হতে পারে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, গণভোট অধ্যাদেশ এবং সংশ্লিষ্ট আদেশের কিছু অংশ কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না—এ বিষয়ে আদালত রুল জারি করেছেন। বিচার বিভাগ মতামত দিতে পারে, তবে সংসদও সার্বভৌম প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিষয়টি বিবেচনা করবে।

তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হলে আগে সংবিধানে সংশোধন আনতে হবে। তবে চলতি অধিবেশনে তা সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে, কারণ ইতোমধ্যে বিপুল সংখ্যক অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। প্রয়োজনে বাজেট অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনী বিল আনা যেতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাকে বিষয়টি সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনা করার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের রায়কে সম্মান জানাতে হবে, তবে তা অবশ্যই সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই করতে হবে।

পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দিতে বলেন।

অধিবেশন মুলতবি হওয়ার পর সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের শফিকুর রহমান জানান, স্পিকারের পরামর্শ অনুযায়ী তারা নোটিশ দেবেন এবং সংসদের ভেতরেই এ বিষয়ে সমাধান চান। তবে সংসদের ভেতরে সমাধান না হলে আন্দোলনের পথেও যেতে হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি শুধু কমিটির বিষয় নয়; বরং পুরো সংসদের বিষয়। তাই সংসদেই এর সমাধান হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন