

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে গতকাল। ২৯৪ আসনের এই বিধানসভায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মধ্যে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। আগামী ৪ মে ঘোষণা করা হবে এ নির্বাচনের ফলাফল।
এদিকে নির্বাচন ঘিরে প্রকাশিত বুথফেরত জরিপে এবারও দেখা যাচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন পূর্বাভাস। যার ফলে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। কিছু জরিপে এগিয়ে রাখা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। আবার কিছু জরিপে অনুযায়ী, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিজেপি।
পিপলস পালসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, তৃণমূল ১৭৭ থেকে ১৮৭টি আসন পেতে পারে। একই জরিপে বিজেপির আসন ধরা হয়েছে ৯৫ থেকে ১১০টির মধ্যে।
অন্যদিকে প্রজা পোল অ্যানালিটিক্সের সমীক্ষায় সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র দেখা গেছে। তাদের হিসাবে বিজেপি ১৭৮ থেকে ২০৮টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে পারে, আর তৃণমূলের আসন কমে দাঁড়াতে পারে ৮৫ থেকে ১১০-এ।
চাণক্য স্ট্র্যাটেজিসের তথ্য অনুযায়ী বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। তাদের পূর্বাভাসে বিজেপির আসন ১৫০ থেকে ১৬০ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের আসন ১৩০ থেকে ১৪০-এর মধ্যে থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া পোল ডায়েরির সমীক্ষায় বিজেপিকে ১৪২ থেকে ১৭১টি আসন এবং তৃণমূলকে ৯৯ থেকে ১২৭টি আসনে দেখা হয়েছে।
ম্যাট্রিজের জরিপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তুলনামূলক কাছাকাছি দেখানো হয়েছে। সেখানে বিজেপি ১৪৬ থেকে ১৬১টি এবং তৃণমূল ১২৫ থেকে ১৪০টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। আবার পি-মার্কের সমীক্ষায়ও বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হয়েছে, যেখানে তাদের আসন ১৫০ থেকে ১৭৫ এবং তৃণমূলের ১১৮ থেকে ১৩৮-এর মধ্যে থাকতে পারে বলে বলা হয়েছে।
বিভিন্ন বুথফেরত জরিপে ভিন্ন ভিন্ন ফলাফল এলেও তৃণমূল কংগ্রেস এসব পূর্বাভাস মানতে নারাজ। দলটির দাবি, অতীতেও এক্সিট পোল তাদের বিরুদ্ধে গিয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তারা বড় জয় পেয়েছিল।
তৃণমূল আরও মনে করিয়ে দিচ্ছে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেও অনেক জরিপে এনডিএ জোটকে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রাখা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে সেই পূর্বাভাস পুরোপুরি মিলেনি। তাই এবারও একই ধরনের ভুল হতে পারে বলে দাবি করছে শাসক দল।
সব মিলিয়ে একদিকে এক্সিট পোলের বিভ্রান্তিকর ইঙ্গিত, অন্যদিকে শাসক ও বিরোধী দুই শিবিরের পাল্টাপাল্টি দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এখন শুধু অপেক্ষা ফল ঘোষণার দিনের, যখন জানা যাবে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার চাবি কার হাতে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন
