

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিয়ের নাটক সাজিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী কমিশনার খান মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে। গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) কর্মরত এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী নারী ডিএমপি কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও সুরাহা পাননি। পরবর্তী সময়ে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন তিনি।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ফেসবুকের মাধ্যমে ২০২০ সালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা ডিবির সহকারী কমিশনার মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে ওই নারীর পরিচয় হয়ে। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর সুবাদে ২০২৩ সালে নিজ জেলা থেকে ঢাকায় এসে মাহমুদুলের সঙ্গে দেখা করেন ওই নারী।
তারপর তাদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হলে ২০২৫ সালের ২ মার্চ বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে ফুঁসলিয়ে তাকে কক্সবাজার নিয়ে যান মাহমুদুল। হোটেলে রাতযাপনকালে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তিনি ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এর কিছুদিন পর ওই বছরের ১ এপ্রিল রাজধানীর চকবাজারের হরনাথ ঘোষ রোডে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নেন মাহমুদুল। সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করতেন তিনি। এভাবে তিন মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর বিয়ের জন্য চাপ দিলে মাহমুদুল বারবার পাশ কাটিয়ে যান। একপর্যায়ে ওই বছরের ১ জুলাই বিয়ে কথা বললে মাহমুদুল ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই নারীকে বিয়ে করবেন না বলে জানান এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।
ওই নারী জানান, একই বছরের ২৪ জুলাই তিনি চকবাজার থানায় মামলা করতে যান। সেখানে ওসি মধ্যস্থতায় ২৭ জুলাই স্থানীয় একটি কাজি অফিসে তাকে বিয়ে করেন মাহমুদুল। কিন্তু বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি স্ত্রীকে কাজি অফিসে রেখে পালিয়ে যান। বারবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নানা অজুহাত দেখান এবং বলেন, ধর্ষণের মামলা থেকে বাঁচতে এবং সরকারি চাকরি বাঁচাতে তিনি বিয়ের নাটক করেছেন। কোনোদিন সংসার করবেন না। এ সময় তিনি আবারও প্রাণনাশের হুমকি দেন।
উপায়ন্তর না দেখে জীবনের নিরাপত্তা ও বিষয়টির সুরাহা চেয়ে গত বছরের ১৪ আগস্ট ডিএমপি কমিশনার বরাবর অভিযোগ করেন ওই নারী। তাতেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় গেল ১৯ নভেম্বর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল-২ এ মামলা করেন।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের প্রলোভনে দিনের পর দিন আমাকে ধর্ষণ করেছেন খান মাহমুদুল হাসান। বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে ধর্ষণ মামলা করব বললে একটি নাটক সাজিয়ে আমাকে তিনি বিয়ে করেন। কিন্তু কাজি অফিসে নিয়ে বিয়ে করেই পালিয়ে যান তিনি। পরে জানতে পারি, তিনি আমাকে তালাক দিয়েছেন।’
ভুক্তভোগী আরও বলেন, ‘কাজি অফিসে বিয়ে করে তিনি পালিয়ে যাওয়ার পর তাকে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেছি, তার অফিসেও গিয়েছি; কিন্তু তিনি আমার সঙ্গে দেখা করেননি। ফোন নম্বরসহ ফেসবুকে আমাকে ব্লক করে রেখেছেন।’
অভিযুক্ত ডিবি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে তার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তবে অভিযোগের বিষয়টি সরাসরি স্বীকার কিংবা অস্বীকার করেননি তিনি।
মাহমুদুলের দেওয়া মোবাইল নম্বরে কথা হয় তার আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দেওয়া ইমরান হোসেনের সঙ্গে। তিনি অভিযোগকারী নারীর বিরুদ্ধে উল্টো অভিযোগ তুলে বলেন, ‘ওই নারী এর আগেও তার একাধিক স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। নিজের আগের বিয়ের কথা গোপন রেখে তিনি মাহমুদুল হাসানকে বিয়ে করেছিলেন। এ ঘটনায় খান মাহমুদুল হাসান ঢাকার সিএমএম কোর্টে (৫৪২৬) প্রতারণার মামলা করেছেন।’
মন্তব্য করুন
