

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটে বিপুল ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয় লাভ করেছে। এ জয়ে দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কাঠামোয় নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী জাতীয় সংসদ হবে দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট। এছাড়া সংসদে ডেপুটি স্পিকার এবং সংসদীয় কমিটির সভাপতি নিয়োগ দেওয়া হবে বিরোধী দল থেকে।
এর বাইরে সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্বও বাড়ানো হবে। দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন বাধ্যতামূলক থাকবে।
প্রস্তাবিত কাঠামোতে জাতীয় সংসদ গঠিত হবে নিম্নকক্ষ ও ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ নিয়ে। উচ্চকক্ষের সদস্যরা দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে নির্বাচিত হবেন। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থনের পাশাপাশি উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
পাশাপাশি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদেও পরিবর্তন আসছে। অর্থবিল ও সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব ছাড়া অন্যান্য বিলে দলীয় অবস্থানের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন সংসদ সদস্যরা।
নির্বাচিত সংসদ শপথ নেওয়ার পর প্রথম ছয় মাস সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করবে। এরপর তারা নিয়মিত আইনপ্রণেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল এবং নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ একাধিক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠনের প্রস্তাব রয়েছে।
বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা সংবিধানের মূলনীতি। জুলাই সনদ অনুসারে সংবিধানের মূলনীতি হবে-সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি। ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার স্থলে যুক্ত হবে-সব সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা। সংবিধানে বর্তমানে ২২টি মৌলিক অধিকার রয়েছে। জুলাই সনদে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে।
সংরক্ষিত নারী আসন ৫০ থেকে বাড়িয়ে ধাপে ধাপে ১০০-তে উন্নীত করার প্রস্তাব রয়েছে। ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হবেন; এমন বিধানও যুক্ত হয়েছে জুলাই সনদে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে সংসদের উভয় কক্ষের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। জরুরি অবস্থা জারির ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভার অনুমোদন প্রয়োজন হবে এবং বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। জরুরি অবস্থাতেও নির্দিষ্ট মৌলিক অধিকার স্থগিত করা যাবে না।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন সংসদের দুই কক্ষের সদস্যদের গোপন ব্যালটে। অভিশংসনের ক্ষেত্রেও উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন হবে। ক্ষমা প্রদানের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবারের সম্মতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, ন্যায়পাল, সরকারি কর্ম কমিশন ও মহা হিসাব নিরীক্ষকের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে পৃথক কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। বিচার বিভাগে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ আপিল বিভাগ থেকে করার বিধান যুক্ত হয়েছে এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জোরদারের কথা বলা হয়েছে।
নাগরিক পরিচয়ে ‘বাংলাদেশি’ শব্দ ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। রাষ্ট্রভাষা বাংলা বহাল থাকলেও অন্যান্য মাতৃভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ। এর মধ্যে গণভোটে ভোট পড়েছে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন। ‘না’ ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন। বিশাল ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে।
মন্তব্য করুন

