

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পৌষ মাসের শুরুতেই দেশজুড়ে শীতের তীব্রতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। দিনের বেলা রোদের দেখা মিলছে খুব কমই, চারপাশ ঘিরে রেখেছে ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডা হাওয়া।
এর প্রভাবে স্থবির হয়ে পড়ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা।
শীতের প্রকোপে সর্দি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। একই সঙ্গে কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, নৌপথ, সড়ক ও রেল যোগাযোগে নিয়মিত বিঘ্ন ঘটছে।
ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক ও খামারিরা, ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। ব্যবসা-বাণিজ্যেও পড়েছে শীতের প্রভাব- অনেক দোকানপাট নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, দেশে শীতের সময়কাল আগের তুলনায় কমলেও এর তীব্রতা বেড়েছে। সাধারণত বৃষ্টির মাধ্যমে কুয়াশা কেটে গেলেও বর্তমানে বায়ুদূষণের কারণে কুয়াশাবলয় স্থায়ী হচ্ছে। নিকট ভবিষ্যতে বৃষ্টির সম্ভাবনাও খুব কম বলে জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসে দেশে ৪ থেকে ৫টি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দুই থেকে তিনটি মাঝারি এবং অন্তত একটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক ও আবহাওয়াবিদ মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, কুয়াশা ও সূর্যের আলো না পাওয়ার কারণেই শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। জানুড়ি জুড়ে এই পরিস্থিতি বিরতিহীনভাবে চলতে পারে- মাঝে কমবে, আবার বাড়বে।
আরেক আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ জানান, দেশের শীতের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঘন কুয়াশার প্রবণতা বেড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় যে মাত্রার শীত অনুভূত হয়েছে, তা গত দুই দশকে বিরল। সেদিন রাজধানীর তাপমাত্রা নেমে আসে ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যেখানে কিছুদিন আগেই তা ছিল প্রায় ২৮-২৯ ডিগ্রি।
তিনি আরও বলেন, শুধু তাপমাত্রা কমলেই শীতের তীব্রতা বাড়ে না। আকাশ পরিষ্কার থাকলে এবং সূর্যের আলো পাওয়া গেলে কম তাপমাত্রাতেও শীত কম অনুভূত হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ঘন কুয়াশার কারণে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রানওয়ের দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ে অবতরণ করতে পারেনি। ফলে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত একাধিক ফ্লাইট বিলম্বিত হয়।
শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের চাপ বাড়ছে হাসপাতালগুলোতে। চিকিৎসকরা সবাইকে পর্যাপ্ত গরম পোশাক ব্যবহার ও সুষম খাদ্য গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতার কথা বলা হচ্ছে।
গ্রামাঞ্চলে শীতের প্রভাব আরও তীব্র। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার এক কৃষক জানান, প্রচণ্ড ঠান্ডায় ইরি ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অনেক চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সামনে রোপণ মৌসুমে সংকট তৈরি হতে পারে।
উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। সূর্যের দেখা না মেলায় কুয়াশা ও ঠান্ডার অনুভূতি আরও বেড়েছে। একই অবস্থা পঞ্চগড়, জয়পুরহাট ও বরিশালেও। পঞ্চগড়ে শীতার্তদের মধ্যে কম্বল বিতরণসহ সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে।
সব মিলিয়ে, পৌষের শুরুতেই শীতের এই তীব্রতা জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। সামনে জানুয়ারি মাসে শৈত্যপ্রবাহের সংখ্যা বাড়লে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন

