মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দলিল নিবন্ধন আইনে বড় পরিবর্তন

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:২৬ পিএম
দলিল
expand

দলিল নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে আধুনিক ও ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনতে নিবন্ধন আইন, ১৯০৮ সংশোধন করে নিবন্ধন (সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দলিল নিবন্ধনে সময়সীমা বাড়ানোসহ একাধিক নতুন বিধান যুক্ত হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে ই-রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে। অধ্যাদেশটি জারির দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংসদ ভেঙে যাওয়ার ফলে এবং জরুরি পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকায় সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির দেওয়া ক্ষমতা ব্যবহার করে এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।

সংশোধিত আইনে দলিল নিবন্ধনের সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগে যেখানে ৩০ দিনের মধ্যে দলিল নিবন্ধন করতে হতো, সেখানে এখন তা ৬০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে চার মাসের সময়সীমা বাড়িয়ে ছয় মাস করা হয়েছে।

আইনের আওতা আরও বিস্তৃত করে বিক্রয় দলিলের পাশাপাশি হেবা ও দান সংক্রান্ত ঘোষণাকেও নিবন্ধনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মুসলিম ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী হেবা এবং হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ আইনে দানের ঘোষণাও এখন নিবন্ধনযোগ্য হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ধারায় ‘বিক্রেতা’র পাশাপাশি ‘দাতা’ শব্দ যুক্ত করা হয়েছে।

সংশোধিত আইনে নিবন্ধন কর্মকর্তাদের জবাবদিহি আরও জোরদার করা হয়েছে। যথাযথ ফি, কর, সার্ভিস চার্জ বা শুল্ক আদায় না করে কোনো দলিল নিবন্ধন করলে তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে অনাদায়ী অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকেই আদায় করা হবে।

নতুন বিধানে আপিল নিষ্পত্তির জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। আপিল জমা দেওয়ার তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রারকে সিদ্ধান্ত দিতে হবে। পাশাপাশি, আবেদন দাখিলের ক্ষেত্রে ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

এই অধ্যাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো ই-রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা। সরকার অনুমোদিত সফটওয়্যার ব্যবহার করে দলিল উপস্থাপন, গ্রহণ ও সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিবন্ধনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত বিধিমালা পরবর্তীতে গেজেটের মাধ্যমে প্রণয়ন করা হবে।

নতুন আইনে দলিল উপস্থাপনের সময়ই সব ধরনের ফি, কর, শুল্ক ও সার্ভিস চার্জ পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অর্থ আদায়ের পদ্ধতি এবং সার্ভিস চার্জ ব্যবহারের নিয়মও সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারণ করবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank