

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রশ্ন এখনো বাংলাদেশে তীব্র আলোচনার বিষয়।
দেশের পক্ষ থেকে তাকে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে একাধিকবার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এই প্রেক্ষাপটে আল জাজিরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর ভিজ্যুয়াল ব্যবহার করে হাসিনার রাজনৈতিক উত্থান–পতনের দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরেছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনা বরাবরই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। একসময় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার নায়ক হিসেবে প্রশংসিত তিনি, সময়ের প্রবাহে স্বৈরতন্ত্র ও দুর্নীতির অভিযোগে ব্যাপক সমালোচিত হন।
মানবাধিকার লঙ্ঘন ও রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধের মামলায় অনুপস্থিত অবস্থায় তার বিরুদ্ধে ঘোষণাও আসে মৃত্যুদণ্ডের।
১৯৪৭ সালে পূর্ব পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া হাসিনা জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের সন্তান।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, আর সেই ইতিহাসের উত্তরাধিকার বহন করেছেন হাসিনা নিজেও।
১৯৯০ সালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে মিলে তিনি সামরিক শাসক এরশাদবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন, যার ফলে এরশাদের পতন ঘটে।
১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে হেরে গেলেও ২০০৮ সালে আবারও ক্ষমতায় আসেন।
২০১৪ সালের নির্বাচন বয়কট করে বিরোধী দল, আর ২০১৮ সালের নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও তিনি ক্ষমতায় বহাল থাকেন। সেই সময়ই দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়া কারাবন্দি হন এবং হাসিনার পতনের পর আদালত তার মুক্তির আদেশ দেয়।
২০০৯ সালের পর থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে পোশাকশিল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে এবং প্রবৃদ্ধি থাকে তুলনামূলক স্থিতিশীল।
তবে একই সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিরোধীদের তুলে নেওয়া, গুম, হত্যার মতো অভিযোগ বাড়তে থাকে- বিশেষত র্যাবের বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালে র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। অভিযোগগুলো শেখ হাসিনা অস্বীকার করেন।
২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন দ্রুত বিস্তৃত হয়ে দেশব্যাপী উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি করে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই সহিংসতায় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে প্রায় ১,৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়। ক্রমশ চাপ বাড়তে থাকলে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে সামরিক হেলিকপ্টারে ভারত চলে যান।
তার অনুপস্থিতিতেই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর থেকেই বাংলাদেশ সরকার তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য নয়াদিল্লির কাছে অনুরোধ জানাচ্ছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর আবারও চিঠি পাঠানো হয়েছে, কিন্তু ভারত এখনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
অস্থায়ী সরকারের প্রধান নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনুস দাবি করেছেন- হাসিনার সময়ে সরকারি কোষাগার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে, যার অঙ্ক ২৩ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি।
২০২৬ সালের শুরুতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে ভারত কি শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে যাবে, নাকি ঢাকার প্রত্যর্পণ চাওয়ার প্রতি সমর্থন জানাবে- তা নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে।
মন্তব্য করুন