সোমবার
০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সোমবার
০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাসিনাকে টেনেহিঁচড়ে গণভবন থেকে বের করা হয়...

বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:৪৩ পিএম
গ্রাফিক্স : এনপিবি
expand
গ্রাফিক্স : এনপিবি

৪ আগস্ট ২০২৪ সালে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বিবৃতিতে আন্দোলনকারীদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান জানান।

তিনি দাবি করেন, সহিংসতায় যুক্তরা কোনোভাবেই ছাত্র নয়; বরং রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে চাওয়া একটি শক্তি। তাদের মোকাবিলায় জনগণের সমর্থন কামনাও করেন তিনি।

কিন্তু পরদিন ভোর থেকেই গণভবনে টানটান উত্তেজনা। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ বাড়তে থাকায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন তার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি, নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা।

মাঠ পর্যায়ের তথ্য জানিয়ে তারা বলেন- ঢাকার অবস্থা দ্রুত খারাপের দিকে যাচ্ছে, জনতার ক্ষোভ ভয়াবহ আকার নিয়েছে। ফার্মগেটের একটি মানবিক ঘটনাবলীর ছবি পরিস্থিতিকে আরও বিস্ফোরক করে তুলেছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে হুঁশিয়ারি আসে- গণভবন যেকোনো সময় আন্দোলনকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। তাই অবিলম্বে স্থানত্যাগই ছিল নিরাপদ। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও একই মত দেন।

পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় ভারতের একটি বিশেষ দল সেদিনই ঢাকা পৌঁছায় এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা দেওয়ার বার্তা পাঠায়। আগের দিন ভারতীয় গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকে যে সতর্কবার্তা এসেছিল, সেটিও তখন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

দুপুরের দিকে তিন বাহিনীর প্রধান গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে তৎক্ষণাৎ সরে যাওয়ার অনুরোধ জানান। তারা বলেন, আর দেরি হলে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না।

কিন্তু শেখ হাসিনা প্রথমে রাজি হননি। তার বোন শেখ রেহানা ২ আগস্ট থেকেই গণভবনে থাকছিলেন।

রেহানা ও উপস্থিত সবাই অনুরোধ করলেও তিনি রাজি হননি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ছেলে সজীব ওয়াজেদের কথাও তাকে সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেনি।

অবশেষে ভারতের এক উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তার ফোন পাওয়ার পর পরিস্থিতির গুরুত্ব তিনি উপলব্ধি করেন।

সামনের পথ দিয়ে হাজারো মানুষের অগ্রযাত্রার খবর এলে পরিকল্পনা বদলানো হয়। কুর্মিটোলা বা তেজগাঁও নয় সরাসরি গণভবনের হেলিপ্যাড থেকেই তাকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

রেহানার জোরাজুরিতে গাড়িতে ওঠা

শেষ মুহূর্তে শেখ রেহানা প্রায় টেনে-হিঁচড়ে হাসিনাকে গাড়িতে তুলে দেন। এসময় হাসিনার ব্যক্তিগত কর্মীরা তড়িঘড়ি করে কয়েকটি স্যুটকেসে তার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে দেন।

গণভবনের হেলিপ্যাডে প্রস্তুত এমআই–১৭ হেলিকপ্টারটি ইঞ্জিন চালু অবস্থায় অপেক্ষা করছিল।

দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে হেলিকপ্টারটি উড্ডয়ন করে। মাত্র কয়েক মিনিট পর সেটি তেজগাঁও বিমানঘাঁটিতে পৌঁছায়, যেখানে প্রস্তুত ছিল সি–১৩০ জে সুপার হারকিউলিস পরিবহন বিমান।

২টা ৪২ মিনিটে সেই বিমান আকাশে ওঠে এবং মালদহের আকাশ অতিক্রম করে ভারতীয় আকাশসীমায় প্রবেশ করে। এরপর ভারতীয় জেট বিমান তাদের নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যায় গাজিয়াবাদের হিন্দন বিমানঘাঁটি পর্যন্ত, যেখানে সন্ধ্যায় তাকে গ্রহণ করেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও সামরিক কর্মকর্তারা।

গণভবনে যা ঘটল এরপর

হেলিকপ্টার উড়ার মাত্র ২৫ মিনিটের মধ্যে জনতা গণভবনের গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। নিরাপত্তাকর্মীরা সংঘর্ষ এড়াতে অস্ত্রশস্ত্র একটি সুরক্ষিত স্থানে রেখে পিছনের দরজা দিয়ে সংসদ ভবনের দিকে সরে যান। এর পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু হয়।

এভাবেই কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৫ বছর ৭ মাসের শাসন অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন