

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কালোজিরা রান্নার পরিচিত একটি মসলা। এর বীজ থেকে তৈরি তেলও দীর্ঘদিন ধরে খাবার ও সৌন্দর্যচর্চায় ব্যবহার হয়ে আসছে। কালোজিরার তেলে থাইমোকুইনোনসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে। এসব উপাদান নিয়ে রক্তচাপ, রক্তে চর্বি, রক্তে শর্করা, প্রদাহ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যক্রমের মতো বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা হয়েছে।
তবে কালোজিরার তেল কোনো রোগের নিশ্চিত চিকিৎসা নয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানি বা অন্য দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধের বিকল্প হিসেবে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।
কালোজিরার তেল চুল ও মাথার ত্বকের যত্নে ব্যবহার করা যায়। তবে সরাসরি বেশি পরিমাণে ব্যবহার না করে নারকেল বা অন্য উপযোগী ক্যারিয়ার অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে নেওয়া ভালো। কালোজিরার তেল, নারকেল তেল ও ক্যাস্টর অয়েল সমপরিমাণে মিশিয়ে মাথার ত্বক ও চুলে লাগানো যেতে পারে। মিশ্রণটি ৩০ মিনিটের মতো রেখে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে এক থেকে দুইবার ব্যবহার করা যেতে পারে।
চুল পড়ার নির্দিষ্ট কারণ থাকলে শুধু তেল ব্যবহারে সমস্যার সমাধান নাও হতে পারে। অতিরিক্ত চুল পড়া, মাথার ত্বকে চুলকানি বা খুশকি থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
কালোজিরার তেল ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে সংবেদনশীল ত্বকে সরাসরি ব্যবহার করলে জ্বালা বা অ্যালার্জির মতো সমস্যা হতে পারে।
ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে অল্প পরিমাণ লাগিয়ে পরীক্ষা করে নেওয়া নিরাপদ। কোনো ধরনের জ্বালা, লালচে ভাব বা চুলকানি দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
কালোজিরার তেলের কিছু উপাদানের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা রয়েছে। এ কারণে ত্বকের কিছু সমস্যায় এটি উপকারী হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। তবে ব্রণ সারানোর নিশ্চিত চিকিৎসা হিসেবে কালোজিরার তেল ব্যবহার করা উচিত নয়। ব্রণ বেশি হলে বা দীর্ঘদিন থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
কালোজিরার তেল বিভিন্ন ঘরোয়া সৌন্দর্যচর্চায় ব্যবহৃত হয়। কেউ কেউ এটি বাদাম তেল বা অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করেন। এতে ত্বক কিছুটা মসৃণ ও আর্দ্র অনুভূত হতে পারে। তবে দাগছোপ দূর করার ক্ষেত্রে সবার ফলাফল এক রকম নাও হতে পারে। বিশেষ করে পুরোনো দাগ, মেছতা বা ত্বকের রোগ থাকলে ঘরোয়া উপাদানের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কালোজিরার তেল খাবারের সঙ্গেও ব্যবহার করা যায়। সালাদ, ভর্তা বা রান্না করা খাবারে অল্প পরিমাণে যোগ করা যেতে পারে। কেউ কেউ কুসুম গরম পানির সঙ্গে অল্প পরিমাণ তেলও গ্রহণ করেন। তবে নিয়মিত খাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরিমাণ ব্যবহার না করাই ভালো। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস, নিম্ন রক্তচাপ বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
কালোজিরার তেল রক্তে শর্করা ও রক্তচাপের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—এমন কিছু গবেষণার ফল পাওয়া গেছে। ফলে ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ গ্রহণকারীরা নিজের ইচ্ছায় নিয়মিত কালোজিরার তেল শুরু করলে ওষুধের প্রভাবের সঙ্গে এর প্রভাব যোগ হয়ে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
তাই এসব রোগে কালোজিরার তেল ব্যবহার করতে চাইলে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।
কালোজিরার তেল খাবার ও সৌন্দর্যচর্চায় ব্যবহৃত একটি পরিচিত উদ্ভিজ্জ তেল। এর কিছু উপাদানের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত ভূমিকা নিয়ে গবেষণা চললেও এটিকে সব রোগের প্রতিষেধক বা নিশ্চিত চিকিৎসা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। পরিমিত ব্যবহার এবং ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


