

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বজুড়ে পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণা। গবেষকদের দাবি, গত প্রায় পাঁচ দশকে পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের গড় মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা ভবিষ্যতে প্রজননস্বাস্থ্য ও সামগ্রিক সুস্থতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭২ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে পরিচালিত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, এই সময়ে পুরুষদের গড় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা প্রায় ৫৪ শতাংশ কমে গেছে।
গত ৭ জুলাই লন্ডনে অনুষ্ঠিত ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব হিউম্যান রিপ্রোডাকশন অ্যান্ড এমব্রায়োলজির (ESHRE) বার্ষিক সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। সেখানে গবেষকরা জানান, টেস্টোস্টেরনের এই দীর্ঘমেয়াদি নিম্নমুখী প্রবণতা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সংকেত।
টেস্টোস্টেরন পুরুষদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হরমোন। এটি বয়ঃসন্ধিকালের শারীরিক পরিবর্তন, পেশি গঠন, যৌন আকাঙ্ক্ষা, হাড়ের শক্তি এবং শুক্রাণু উৎপাদনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে।
গবেষকদের ধারণা, অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস, পরিবেশ দূষণ, হরমোনের ভারসাম্য নষ্টকারী রাসায়নিক পদার্থ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিভিন্ন কারণ এই হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে কোনো একক কারণকে এখনই নিশ্চিতভাবে দায়ী করা যাচ্ছে না।
গবেষণার অন্যতম গবেষক, ইসরাইলের হিব্রু ইউনিভার্সিটি-হাডাসা ব্রাউন স্কুল অব পাবলিক হেলথ অ্যান্ড কমিউনিটি মেডিসিনের অধ্যাপক হাগাই লেভিন বলেন, পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্য বর্তমানে গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তার মতে, প্রায় ৫০ বছরে টেস্টোস্টেরনের গড় মাত্রা অর্ধেকের বেশি কমে যাওয়া কোনো আকস্মিক ঘটনা বা পরিসংখ্যানগত বিচ্যুতি নয়; বরং এটি একটি ধারাবাহিক প্রবণতা।
যদিও টেস্টোস্টেরনের এই পতনের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং এর দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে গবেষণা এখনও চলছে, তবুও বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে একই গবেষক দল পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা নিয়ে গবেষণা করে দেখেছিল, গত চার দশকে সেটিও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। সেই গবেষণাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
এ বিষয়ে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক চান্না জয়সেনা বলেন, বিভিন্ন গবেষণার ফল একত্রে বিশ্লেষণ করলে পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্যের অবনতির একটি ধারাবাহিক চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাই বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।