রবিবার
০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরীক্ষার হলে ভয় দূর করার কার্যকরী কিছু কৌশল

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

পরীক্ষার হলে ঢোকার পর হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করা বা সব ভুলে যাওয়ার মতো অনুভূতি হওয়া খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। একে বলা হয় পরীক্ষাজনিত মানসিক চাপ বা এক্সাম অ্যাংজাইটি। এটি কোনো দুর্বলতা নয়।

১. পরীক্ষার ঠিক আগে ও প্রশ্ন পাওয়ার পর করণীয়

যখনই বুঝবেন বুক ধড়ফড় করছে, নাক দিয়ে ৪ সেকেন্ড ধরে গভীর শ্বাস নিন, কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখুন এবং মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়ুন। এভাবে ৩-৫ বার করলে শরীর ও মন শান্ত হবে।

প্রশ্নপত্র হাতে পেয়েই লেখা শুরু করার দরকার নেই। প্রথম ২-৩ মিনিট পুরো প্রশ্নটা ভালো করে পড়ে নিন।

যে প্রশ্নের উত্তর আপনার সবচেয়ে ভালো জানা আছে, সেটি আগে লিখুন। এতে আপনার আত্মবিশ্বাস ও লেখার গতি দুই-ই বেড়ে যাবে।

প্রশ্ন দেখে প্রথম মুহূর্তে মনে হতে পারে "কিচ্ছু মনে নেই"। এটা উদ্বেগের কারণে হয়। একটু শান্ত হয়ে বসলেই দেখবেন পড়াগুলো একে একে মনে পড়ছে।

২. পরীক্ষার চলাকালীন করণীয়

অন্যের দিকে তাকাবেন না: পাশের জন কত দ্রুত লিখছে বা কয়টা লুজ শিট (অতিরিক্ত খাতা) নিল, তা দেখে ঘাবড়ে যাবেন না। দ্রুত লেখা মানেই ভালো লেখা নয়। নিজের খাতায় মনোযোগ দিন।

সময়ের দিকে নজর রাখুন: ঘড়ির দিকে খেয়াল রেখে শুরুতেই মনে মনে ভাগ করে নিন কোন প্রশ্নে কতটুকু সময় দেবেন। একটি প্রশ্নে আটকে গিয়ে পুরো পরীক্ষা নষ্ট করবেন না।

পানি পান করুন: নার্ভাসনেসের কারণে মুখ শুকিয়ে গেলে অল্প অল্প করে পানি খান। এতে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়ে এবং মনোযোগ ফিরে আসে।

ভুল হলে আটকে থাকবেন না: কোনো উত্তর ভুল হলে বা মনে না পড়লে তা নিয়ে আফসোস করে সময় নষ্ট করবেন না। ওটা ছেড়ে পরের প্রশ্নে চলে যান। পরে সময় পেলে ওটা নিয়ে ভাববেন।

৩. নিজের মনকে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন

ইতিবাচক কথা বলুন: মনের ভেতর "আমি পারব না", "সব শেষ"- এমন নেতিবাচক চিন্তা আসতে দেবেন না। নিজেকে বলুন: "আমি প্রস্তুতি নিয়েছি, আমি শান্ত থাকব এবং আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।"

মনে রাখুন, আপনি একা নন। হলের সবাইকে বাইরে থেকে আত্মবিশ্বাসী মনে হলেও, ভেতরে ভেতরে অধিকাংশ পরীক্ষার্থীই কম-বেশি নার্ভাস থাকে।

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হাল ছাড়বেন না। পরীক্ষার শেষ ১০-১৫ মিনিট অত্যন্ত মূল্যবান। এই সময়েও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভুল সংশোধন করা বা ছোটখাটো উত্তর লেখা সম্ভব। খাতা জমা দেওয়ার আগে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর অবশ্যই মিলিয়ে নিন।

৪. পরীক্ষার আগের রাতের প্রস্তুতি

পরীক্ষার হলে শান্ত থাকার মূল চাবিকাঠি কিন্তু আগের রাতেই লুকিয়ে থাকে:

রাতে পর্যাপ্ত ঘুমান।

শেষ মুহূর্তে নতুন কোনো কঠিন বিষয় পড়তে যাবেন না।

পরীক্ষার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র (কলম, পেন্সিল, প্রবেশপত্র) আগের রাতেই গুছিয়ে রাখুন।

হাতে সময় নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওনা দিন যেন তাড়াহুড়ো না হয়।

নার্ভাস লাগার মানে আপনি অযোগ্য নন। এর মানে হলো পরীক্ষাটি আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। হলের সবচেয়ে বড় যুদ্ধটা অন্য কারও সাথে নয়, নিজের ভয়ের সাথে। নিজেকে শান্ত রাখতে পারলে আপনার প্রস্তুতি শতভাগ কাজে লাগবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Brazil VS Norway
Scheduled
06 Jul, 02:00 AM
VS
World Cup