

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বর্তমানে সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়লেও একটি ভুল ধারণা রয়ে গেছে- আমরা ভাবি, যে মনের ভাব প্রকাশ করে না, সে হয়তো অনুভূতিহীন। কিন্তু মনোবিজ্ঞান বলে, অনুভুতি থাকা আর তা প্রকাশ করা দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
অনেকে নিজের আবেগ বাইরে না দেখিয়ে নীরবে সামলাতে পছন্দ করেন। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে যেখানে সবকিছু শেয়ার করার একটা ট্রেন্ড চলছে, সেখানে নিজের অনুভূতি গোপন রাখা বা একা সময় নেওয়াটা অনেকের কাছে অস্বাভাবিক মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তবে এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি আচরণ।
কিছু মানুষ কেন আবেগ প্রকাশ করতে পারে না?
প্রত্যেক মানুষের ব্যক্তিত্ব ও অতীতের অভিজ্ঞতা আলাদা। মূলত নিচের ৩টি কারণে অনেকে গুটিয়ে থাকেন:
শৈশবের শিক্ষা: ছোটবেলা থেকেই অনেকে শেখেন যে, কান্না করা বা দুর্বলতা দেখানো ঠিক নয়।
অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা: অতীতে কোনো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার কারণে অনেকে অনুভূতি প্রকাশে ভয় পান।
প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়: "মনের কথা বললে অন্যরা কী ভাববে বা দূরে সরে যাবে কি না"- এই আশঙ্কায় অনেকেই চুপ থাকেন।
দমন ও সংযমের পার্থক্য কোথায়?
আবেগ প্রকাশ না করার পেছনে দুটি ভিন্ন মানসিক অবস্থা কাজ করে। এদের পার্থক্য বোঝা খুব জরুরি:
আবেগ দমন: নিজের কষ্ট, ভয় বা দুঃখকে স্বীকার না করে জোর করে চেপে রাখা। দীর্ঘদিন এমন করলে মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা বিষণ্নতার ঝুঁকি বাড়ে।
সংযম: নিজের অনুভূতি সম্পর্কে সচেতন থাকা, কিন্তু পরিস্থিতি বুঝে সাময়িকভাবে তা প্রকাশ না করা।
যেমন: পরিবারের বড় সমস্যার মধ্যেও অফিসের কাজের স্বার্থে নিজেকে স্বাভাবিক রাখা। এটি একটি মানসিক দক্ষতা।
নীরবতার আড়ালে গভীর অনুভূতি
যারা নিজের অনুভূতি সহজে প্রকাশ করেন না, তাদের আমরা প্রায়ই ভুল বুঝি। অথচ তাদের এই নীরবতার আড়ালে অন্যরকম কিছু গুণ থাকে:
তারা অন্যের কথা খুব মন দিয়ে শোনেন।
সম্পর্ককে গভীর মূল্যায়ন করেন এবং নিজের আবেগ নিয়ে গভীরভাবে ভাবেন।
কথার বদলে কাজের মাধ্যমে তারা ভালোবাসা বা যত্ন প্রকাশ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
কখন পেশাদার সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন?
সব সময় আবেগ প্রকাশ না করা কোনো সমস্যা নয়। তবে যদি নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়, তবে একজন মনোরোগ
বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist) বা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত:
১. দীর্ঘদিন ধরে নিজের সব অনুভূতি জোর করে চেপে রাখা।
২. কারো সাথেই মনের কথা একদম শেয়ার করতে না পারা।
৩. নিজেকে সবার থেকে গুটিয়ে নিয়ে সবসময় একা থাকা।
৪. মানসিক চাপের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়া।
সঠিক সময়ে প্রফেশনাল সাহায্য নিলে মানসিক চাপ কমানোর পাশাপাশি নিজের অনুভূতিগুলোকে স্বাস্থ্যকর উপায়ে প্রকাশ করার দারুণ সব কৌশল শেখা সম্ভব।

