

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দুপুরের ভরপেট ভাতের পর চোখের পাতা ভারী হয়ে আসা এক চিরচেনা অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে কর্মব্যস্ত দিনে অফিসের ডেস্কে বসে এই তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব সামলানো বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। আমাদের শরীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, খাদ্যের পুষ্টিগুণ এবং হজম পদ্ধতির এক চমৎকার রসায়নের কারণেই মূলত এই ঘুম ঘুম ভাবের সৃষ্টি হয়।
কেন ভাত খাওয়ার পর ঘুম পায়?
ভাতে থাকা বিপুল পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট শরীরে প্রবেশ করে দ্রুত গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়। এটি সাময়িকভাবে আমাদের শক্তি জোগালেও, কিছুক্ষণ পর রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে কমতে শুরু করে। শর্করার এই আকস্মিক পতনই আমাদের শরীরকে ক্লান্ত ও অলস করে তোলে।
সাদা ভাত দ্রুত হজম হয়, কারণ এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেক বেশি। খাবার যত দ্রুত হজম হয়, রক্তে গ্লুকোজের ওঠানামা তত তীব্র হয়। এই দ্রুত পরিবর্তনের ফলেই মূলত ভাতের থালা ওল্টানোর কিছুক্ষণের মধ্যে শরীর জুড়ে ক্লান্তি নেমে আসে।
আমরা যখন অতিরিক্ত পরিমাণে ভাত বা তার সঙ্গে তেল-মসলাযুক্ত ভারী খাবার খাই, তখন পাকস্থলীর তা হজম করতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়। শরীরের সিংহভাগ শক্তি ও রক্ত সঞ্চালন তখন পরিপাকতন্ত্রের দিকে ধাবিত হয়, ফলে মস্তিষ্কে সাময়িকভাবে অক্সিজেনের ঘাটতি ও অলসতা তৈরি হয়।
দৈনন্দিন কাজে এর প্রভাব
ভাত খাওয়ার পরের এই ঘুম ঘুম ভাব কোনো অসুস্থতা নয়, বরং একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রতিক্রিয়া। তবে এটি আমাদের কর্মক্ষমতায় বেশ নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
দুপুরের খাবারের পর হুট করে কাজের গতি কমে যাওয়া, মনোযোগ হারিয়ে ফেলার পেছনে এই "ফুড কোমা" বা তন্দ্রাচ্ছন্নতাই দায়ী।
অলসতা কাটিয়ে সতেজ থাকার উপায়
দুপুরের খাবার উপভোগ করার পাশাপাশি সারাদিন চনমনে থাকার জন্য খাদ্যাভ্যাসে সামান্য কিছু পরিবর্তন আনাই যথেষ্ট:
খাবারের অনুপাত ঠিক করা: দুপুরের খাবারে ভাতের পরিমাণ কমিয়ে দিন। থালায় ভাতের চেয়ে সবজি ও সালাদের পরিমাণ বাড়ালে ফাইবার বা আঁশের কারণে হজম প্রক্রিয়া ধীরগতির হয়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
প্রোটিনের সংযুক্তি: ভাতের সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণে মাছ, মাংস, ডিম বা ডাল রাখুন। প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার রক্তের শর্করাকে হঠাৎ করে বাড়তে বা কমতে দেয় না, ফলে শরীর দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি পায়।
হালকা হাঁটাচলা: দুপুরের খাবার শেষ করেই ডেস্কে বা বিছানায় বসে না পড়ে অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট হালকা পায়চারি করুন।
এই অভ্যাসটি রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে এবং দুপুরের অলসতা নিমেষেই দূর করে।
