শুক্রবার
২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এ বি এম আবদুল্লাহ

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এমন আচরণ আমাকে চরম অপমানিত করেছে

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম
অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ
expand
অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ

ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ বাতিল, বেতন ফেরতের নির্দেশ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর জানান, বিশ্ব বা বাংলাদেশের ইতিহাসে আজীবন সম্মানসূচক নিয়োগ বাতিলের এমন নজির আর নেই। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন আচরণ আমাকে সামাজিকভাবে চরমভাবে অপমানিত করেছে।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর আজীবন নিয়োগ বাতিল এবং তার উত্তোলিত সব বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার নির্দেশের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে এভাবেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তকে তিনি ‘সম্পূর্ণ অন্যায়, অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মনে করছেন। এ ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেন ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ।

অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ জানান, ৫০ বছরের চিকিৎসা জীবনে অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দিয়ে এসেছি। কর্মজীবনে ১৪ থেকে ১৫টি আন্তর্জাতিক ও একাডেমিক পুরস্কারের পাশাপাশি ইউজিসি অ্যাওয়ার্ড এবং রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘একুশে পদক’ পেয়েছি। এছাড়া আন্তর্জাতিক স্বীকৃত চিকিৎসাশাস্ত্রের আকর গ্রন্থ “ডেভিডসন” এবং “কুমার অ্যান্ড ক্লার্ক”-এর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সঙ্গে দীর্ঘকাল যুক্ত ছিলাম।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) গণমাধ্যমে বলেন, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে গুণীজনদের সম্মানসূচক পদমর্যাদা এভাবে বাতিল করার কোনো নিয়ম নেই।

আর্থিক বিষয়ের চেয়ে সম্মানহানির বিষয়টিই তাকে বেশি ব্যথিত করেছে জানিয়ে অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, এ পদে সম্মানীর পরিমাণ খুবই সামান্য ছিল, সম্ভবত ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন আচরণ আমাকে সামাজিকভাবে চরমভাবে অপমানিত করেছে।

অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে কমিটির কোনো এক সদস্যের আপত্তির কারণে তার এ আজীবন নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। এই অজুহাতকে সম্পূর্ণ অন্যায় ও যৌক্তিকতাহীন বলে মনে করেন। তার মতে, ‘আজীবন সম্মানসূচক নিয়োগ এভাবে বাতিল করার কোনো নিয়ম বা নজির বিশ্বে নেই।

তিনি পুরো প্রক্রিয়াটিকে তার সততা ও দীর্ঘ ৫০ বছরের কর্মজীবনের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত আক্রমণ ও অবমাননা হিসেবে দেখছেন। তার মতে, এ সিদ্ধান্তের পেছনে থাকা ব্যক্তিরা কোনো নিয়ম-নীতি বা প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করেই এটি করেছেন। এ ঘটনাকে শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং সম্মানহানি এবং সুযোগ-সুবিধা কুক্ষিগত করার একটি হীন প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বুধবার (২৪ জুন) বলা হয়, ২০২৪ সালের ২০ জুন সিন্ডিকেটের ৯২তম বাজেট অধিবেশন সভায় আলোচ্যসূচির বহির্ভূতভাবে একজন সদস্যের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ‘ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ অধ্যাদেশ’ সংশোধন করা হয়েছিল।

একই সভায় পুনরায় অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহকে আজীবন মেয়াদে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা ছিল বিধিবহির্ভূত। তাই ওই নিয়োগ অনুমোদনযোগ্য নয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ৯২তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে দেওয়া আজীবন নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই সভার তারিখ থেকে অধ্যাপককে ইমেরিটাস পদের বিপরীতে তার উত্তোলিত বেতন-ভাতাও ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Curaçao VS Ivory Coast
Scheduled
26 Jun, 02:00 AM
VS
World Cup