শুক্রবার
১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেন মানুষ আজকাল অসম ও পরকীয়া সম্পর্কে ঝুঁকছে ?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
এনপিবি কোলাজ
expand
এনপিবি কোলাজ

প্রেম প্রথার ধার ধারে না- এটি চিরন্তন সত্য হলেও বাস্তবতার কঠিন মাটিতে এসে অনেক সময়ই এই আবেগ থমকে দাঁড়ায়। আমাদের সমাজ ব্যবস্থা ও সংস্কৃতি সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু অলিখিত নিয়ম মেনে চলে।

যখনই কোনো সম্পর্ক বয়স, ধর্ম, সমাজ বা অর্থনীতির প্রথাগত কাঠামো ভেঙে বাইরে বের হয়, তখনই শুরু হয় টানাপোড়েন। মূলত একাকীত্ব, মানসিক ও আর্থিক নিরাপত্তার অভাব কিংবা জীবনের অপ্রাপ্তি মেটানোর তাগিদ থেকেই মানুষ অসম সম্পর্কের মতো চ্যালেঞ্জিং পথে পা বাড়ায়।

আজকের সমাজে বয়সের বড় ব্যবধানের সম্পর্কগুলো বেশ দৃশ্যমান। অর্থনৈতিক সুবিধা বা বিলাসিতার লোভে গড়ে ওঠা ‘সুগার ড্যাডি’ বা ‘সুগার মম’-এর মতো সম্পর্ককে সমাজ কেবল ‘প্রেম’ নয়, বরং এক ধরনের বৈষয়িক বিনিময় হিসেবে দেখে।

অন্যদিকে, বিবাহিত জীবনের একঘেয়েমি থেকে মুক্তির নেশায় জড়ানো পরকীয়া শুধু একটি পরিবারই ধ্বংস করে না, সন্তানের মনেও দীর্ঘস্থায়ী ট্রমা তৈরি করে। আবার বাংলাদেশের মতো রক্ষণশীল সমাজে ভিন্ন ধর্মের মানুষের প্রেম আজও পরিবার ও আইনি জটিলতার এক বড় দেয়াল।

সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ বা প্রথাবিরোধী এই সম্পর্কগুলো অনেক সময় মানসিক বিপর্যয় ও গভীর বিষণ্নতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তবে এমন কোনো স্পর্শকাতর সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য কিছু কৌশল অবলম্বন করা জরুরি- আবেগ সরিয়ে রেখে ভাবুন- পরিবার ও সমাজের চাপ নেওয়ার মানসিক শক্তি আপনার আছে কি না।

সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করুন। পারস্পরিক বিশ্বাস মজবুত হলে বাইরের ঝড় মোকাবিলা করা সহজ হয়। বিদ্রোহী না হয়ে ধৈর্য ধরে পরিবারের দুশ্চিন্তার কারণগুলো বুঝুন এবং তাদের বোঝানোর সময় নিন।

সমাজ সবসময় ইতিবাচক হবে না- এটি মেনে নিয়ে প্রয়োজনে প্রফেশনাল কাউন্সেলিংয়ের সাহায্য নিন।

সম্পর্ক যা-ই হোক, তা টিকিয়ে রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা অপরিহার্য। সমাজের বাঁকা চোখকে উপেক্ষা করে নিজের অবস্থানে অটল থাকতে হলে নিজেদের ভেতরকার বোঝাপড়াটা সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী হতে হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন