

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের গবেষকদের নেতৃত্বাধীন সাম্প্রতিক একটি বিস্তৃত পর্যালোচনা অ্যালকোহল পানের তথাকথিত ‘নিরাপদ মাত্রা’র ধারণাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
১৯৬৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত ৮৪৩টি গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দিনে এক গ্লাসেরও কম বা অত্যন্ত সীমিত পরিমাণের মদ্যপানও শরীরে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি সবচেয়ে স্পষ্ট ও ধারাবাহিক।
গবেষণাটিতে অ্যালকোহলের সঙ্গে মোট ২০টি স্বাস্থ্যগত সমস্যার সম্পর্ক খতিয়ে দেখা হয়েছে। ফলাফলে জানা যায়, অল্প মাত্রায় মদ্যপান করলেও ফ্যারিংস, কোলোরেক্টাল, স্তন, লিভার এবং অগ্ন্যাশয়সহ অন্তত ১০ ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।
এছাড়াও এটি প্যানক্রিয়াটাইটিস, সিরোসিস এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি লিভারের রোগের জন্য দায়ী। উচ্চমাত্রায় অ্যালকোহল সেবনের ফলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, আলঝেইমার, হৃদরোগ এবং শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের মতো জটিলতা তৈরি হয়।
তবে কার্ডিওভাসকুলার বা ডিমেনশিয়ার মতো কিছু ক্ষেত্রে অল্প মদ্যপানে ঝুঁকির সামান্য হ্রাস লক্ষ্য করা গেলেও, গবেষকরা একে কোনোভাবেই মদ্যপানের পক্ষে সমর্থন বা উৎসাহ হিসেবে না দেখার জন্য সতর্ক করেছেন। কারণ উচ্চমাত্রায় পৌঁছালে
এই সাময়িক সুরক্ষা পুরোপুরি উধাও হয়ে যায় এবং ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়। যদিও গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের নিজস্ব রিপোর্টের নির্ভরযোগ্যতা এবং অন্যান্য জীবনযাত্রার প্রভাবকের মতো কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল, তবুও বিশাল পরিসরের কারণে এর ফলাফলকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
পরিশেষে, গবেষকরা জনস্বাস্থ্যের বার্তা আরও স্পষ্ট করার এবং প্রচলিত ‘নিরাপদ সীমার’ ধারণা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। যেহেতু বয়স ও অঞ্চলভেদে রোগের প্রভাব ভিন্ন হয়, তাই সবার জন্য প্রযোজ্য কোনো সর্বজনীন নিরাপদ মাত্রা থাকতে পারে না।
বরং নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনা করে জনসংখ্যাভিত্তিক নতুন নির্দেশনা তৈরি করা উচিত, যাতে মানুষ মদ্যপান ত্যাগের মাধ্যমে এর নানাবিধ স্বাস্থ্যগত সুবিধা উপভোগ করতে পারে।
