বুধবার
২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পঞ্চদশ সংশোধনী: হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি চলছে

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৩ এএম আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৪ এএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি অংশ বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি দ্বিতীয় দিনের মতো শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে এ শুনানি শুরু হয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটকারীদের পক্ষে রয়েছেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও ড. শরীফ ভূঁইয়া।

এর আগে গত বছরের ১৩ নভেম্বর পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধান বাতিল সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেয় দেশের সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

পরে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়। রিটকারী সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া ওই আবেদন করেন। আবেদনে পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরো আইন বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছিল।

হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর দুটি ধারা বাতিল ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধান পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করেননি আদালত।

রায়ে হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ করেন, গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটানো গণতন্ত্রের অন্যতম শর্ত। আদালতের মতে, দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত কয়েকটি নির্বাচন নিয়ে জনআস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল।

আদালত আরও বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে যুক্ত হয়েছিল এবং এটি পরবর্তী সময়ে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়।

হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত ৭ক, ৭খ এবং ৪৪(২) অনুচ্ছেদের কিছু অংশকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ সংক্রান্ত ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয়। গণভোটের বিধান বাতিল সংক্রান্ত ৪৭ ধারাও অসামঞ্জস্যপূর্ণ উল্লেখ করে বাতিল করা হয়।

২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সংবিধানে বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হয়। এছাড়া বেশ কিছু ঐতিহাসিক ও সাংবিধানিক বিষয় এতে যুক্ত করা হয়েছিল।

হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পুরোপুরি বাতিল হচ্ছে না। যেসব বিষয় বহাল রাখা হয়েছে, সেগুলো নিয়ে ভবিষ্যৎ সংসদ আইন অনুযায়ী জনগণের মতামত বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বা সংশোধনের উদ্যোগ নিতে পারবে।

আপিল বিভাগে চলমান শুনানিতে এখন হাইকোর্টের ওই রায়ের আইনগত ভিত্তি ও সংশোধনীর বৈধতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন