রবিবার
০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামিসা হত্যা মামলার রায়, প্রধান শিক্ষকের প্রতিক্রিয়া 

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
সংগৃহীত
expand
সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় মূল আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (৭ জুন) দুপুরে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন। এই রায়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বিদ্যালয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক।

রায় ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ায় প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘রামিসা আমাদের স্কুলের অত্যন্ত শান্ত ও মেধাবী একজন ছাত্রী ছিল। তাকে যেভাবে অমানুষিক নির্যাতন ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো সুস্থ মানুষ কল্পনাও করতে পারে না।

আজ আদালতের এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা শিক্ষকেরা এবং রামিসার সহপাঠীরা এই রায়ে স্বস্তি পেয়েছি।

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট হলেও আমাদের দাবি থাকবে এই ফাঁসির আদেশ যেন উচ্চ আদালতেও বহাল থাকে এবং তা দ্রুত কার্যকর করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিশু এমন নির্মমতার শিকার না হয়।

এদিকে রায় ঘোষণার আগে আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, শিশুটিকে হত্যার আগে ধর্ষণ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া প্রধান আসামি সোহেল রানা স্বেচ্ছায় আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর স্বামীকে পালিয়ে যেতে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন।

মাত্র চার কার্যদিবসের মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর মামলাটির বিচারকাজ সম্পন্ন করায় আদালতের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন রামিসার বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার স্কুলে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়। এ সময় প্রতিবেশী স্বপ্না খাতুন তাকে কৌশলে নিজেদের ফ্ল্যাটে ডেকে নেন।

পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সোহেলের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির ভেতর তার কাটা মাথা উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় পরদিন পল্লবী থানায় হত্যা মামলা করেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা। আজ আদালত দীর্ঘ সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির আদেশ দেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন