

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিশু শিক্ষার্থী রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে মামলার বাদী ও ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দির মাধ্যমে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
জবানবন্দীতে রামিসার বাবা বলেন, মেয়েকে পাওয়া যাচ্ছে না এমন খবর পেয়ে অফিস থেকে বাসায় আসি। বাসার সামনে প্রচুর লোক দেখতে পাই। দৌড়ে আমাদের ফ্লাটের যায়। গিয়ে দেখি সবাই সামনের ডোরলক ভাঙার চেষ্টা করছে, হাতুরি দিয়ে আঘাতের পরে দরজাটা খুলে যায়। আমি, আমার স্ত্রীসহ অনেক মানুষ সে বাসায় ঢুকি। কমন রুমের দরজাও বন্ধ ছিলো। সেটাও ভাঙার চেষ্টা করে সবাই। ওটা ভেঙে সোহেল রানার স্ত্রীকে দাড়িয়ে থাকতে দেখি। পরে রামিসা কোথায় জানতে চাইলে, সে কোনো কথা বলে না।
তিনি আরও বলেন, সেসময় সোহেল রানার ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। সেই মেঝেতে কিছু রক্ত পরে থাকতে দেখি। এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে সে কিছু না বলে দাঁড়িয়ে থাকে। পরে সোহেলের ঘরের দরজা ভেঙে স্টিলের খাটের নিচে রামিসার মাথাবিহীন দেহ দেখতে পাই।
এর আগে গত সোমবার আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন এবং একই দিনে ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেন।
তদন্ত–সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মামলার তদন্ত শেষে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র দাখিলের পর মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। আদালত চার্জগঠন শুনানির জন্য সোমবার দিন ধার্য করেছিলেন।
আইনজীবীরা বলছেন, নিম্ন আদালতে বিচারকাজ দ্রুত এগোলেও চূড়ান্ত রায় কার্যকরের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে বিচার দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি রায় কার্যকর হওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে, গত ১৯ মে পল্লবীতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও পরে তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার দুই আসামিই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
এ ঘটনায় পরদিন ২০ মে ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
