

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও অসাবধানতার কারণে আপনার প্রিয় ল্যাপটপটি যেকোনো মুহূর্তে মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
প্রতিদিনের কিছু ভুল অভ্যাসের কারণে ল্যাপটপের প্রসেসর ও ব্যাটারি চরম ঝুঁকিতে পড়ে। বড় কোনো বিপদ ঘটার আগেই এই অভ্যাসগুলো বদলে ফেলা জরুরি।
১. বিছানা বা তোশকের ওপর রেখে কাজ করা
বিছানার তোশক, কোলবালিশ বা সোফার মতো নরম জায়গায় ল্যাপটপ রেখে কাজ করা খুবই বিপজ্জনক। এতে ল্যাপটপের নিচের এয়ার ভেন্ট (গরম বাতাস বের হওয়ার রাস্তা) বন্ধ হয়ে যায়।
ফলে ভেতরে প্রসেসর অতিরিক্ত গরম হয়ে পড়ে এবং সেই উত্তাপ লিথিয়াম ব্যাটারিতে লেগে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
২. ল্যাপটপের পাশে বা কীবোর্ডের ওপর চা-কফি রাখা
কাজ করার সময় ল্যাপটপের ঠিক পাশেই ধোঁয়া ওঠা চা বা কফির কাপ রাখার অভ্যাস অনেকেরই আছে। অসাবধানবশত সামান্য তরল ভেতরে ঢুকলেই মাদারবোর্ডে শর্ট সার্কিট হতে পারে, যা থেকে ব্যাটারিতে আগুন ধরে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
৩. নকলে বিশ্বাস: সস্তার চার্জার ব্যবহার
মূল চার্জার নষ্ট হয়ে গেলে অনেকে বাজার থেকে সস্তার লোকাল বা নকল চার্জার কিনে ব্যবহার করেন। এসব চার্জারে ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণের সঠিক প্রযুক্তি থাকে না। ফলে অতিরিক্ত ভোল্টেজের শকে ব্যাটারি ফুলে ওঠে এবং যেকোনো মুহূর্তে বাস্ট করতে পারে।
৪. রাতভর চার্জে বসিয়ে রাখা
ল্যাপটপ সারারাত চার্জে দিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়া একদমই উচিত নয়। ১০০% চার্জ হওয়ার পরও প্লাগ ইন করে রাখলে কেমিক্যাল ওভারহিটিং হতে পারে। এতে ব্যাটারির ‘থার্মাল রানঅ্যাওয়ে’ ঘটে এবং তাপমাত্রা মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গিয়ে ডিভাইসের বড় ধরনের ক্ষতি হয়।
৫. তীব্র রোদে বা বন্ধ গাড়িতে ল্যাপটপ রাখা
কড়া রোদের মধ্যে ল্যাপটপ ফেলে রাখা কিংবা রোদে দাঁড়িয়ে থাকা বন্ধ গাড়ির ভেতরে ডিভাইস রেখে দেওয়া মারাত্মক ভুল।
ভেতরের পার্টসের তাপমাত্রা এবং বাইরের রোদের তাপ মিলে ব্যাটারির সেলগুলোকে অকেজো করে দেয়, যা থেকে আগুন পর্যন্ত ধরে যেতে পারে।
বিপদের লক্ষণগুলো চিনে রাখুন
ল্যাপটপ থেকে যদি কখনো মিষ্টি কেমিক্যালের বা প্লাস্টিক পোড়ার গন্ধ পান, কোনো অস্বাভাবিক শব্দ শোনেন কিংবা ব্যাটারির দিকটা ফুলে উঠতে দেখেন- তাহলে ভুলেও তা অবহেলা করবেন না।
এগুলো ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাওয়ার স্পষ্ট সংকেত। এমন কিছু খেয়াল করলে সঙ্গে সঙ্গে ল্যাপটপ বন্ধ করে চার্জার খুলে ফেলুন।
সবসময় ব্র্যান্ডের বা সঠিক মানের চার্জার ব্যবহার করুন, সমতল ও শক্ত জায়গায় ল্যাপটপ রেখে কাজ করুন এবং নিয়মিত ডিভাইস সার্ভিসিং করান। একটু সচেতনতাই আপনাকে ও আপনার গ্যাজেটকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।