

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চলতি বছরের জানুয়ারিতে মোবাইল ফোন আমদানিতে ১৫ শতাংশ শুল্কছাড় দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সাময়িক এই সুবিধার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩০ জুন। নতুন করে কোনো সিদ্ধান্ত না এলে জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকে করভার বেড়ে যাবে। যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে মোবাইল ফোনের খুচরা বাজারে।
এ নিয়ে মুঠোফোন আমদানিকারকদের সংগঠন মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমআইওবি) ১৮ জুন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) একটি চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে সংগঠনটি বলেছে, শুল্ক-সুবিধার মেয়াদ না বাড়ানো হলে আমদানি করা মুঠোফোনের ওপর মোট করভার বেড়ে ৬৪ দশমিক ২৫ শতাংশে পৌঁছাবে।
এমআইওবি সূত্র বলছে, করভার বেড়ে গেলে আমদানীকৃত মোবাইল ফোনের দাম ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। সংগঠনটির সভাপতি জাকারিয়া শাহিদ বলেন, বিশ্ববাজারে মেমোরি চিপ, মাদারবোর্ড, সিপিইউ, ব্যাটারিসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশের দাম বাড়ছে। ফলে মোবাইল ফোনের দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না। এর মধ্যে আমদানি কর বেড়ে গেলে মোবাইল ফোনের দাম আরও বাড়বে। অনেক ক্রেতা কম দামে ফোন কিনতে আবারও ‘গ্রে মার্কেটের’ দিকে ঝুঁকতে পারেন।
আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিদেশ থেকে আনা সম্পূর্ণ তৈরি মোবাইল ফোনের জন্য এই শুল্ক-সুবিধা বহাল রাখার কোনো ঘোষণাও দেওয়া হয়নি। ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরকারের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছে বাজার।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে সরকার আমদানীকৃত মোবাইল ফোনের ওপর কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করেছিল। এর ফলে ভ্যাট, অগ্রিম আয়কর ও অন্যান্য কর মিলিয়ে আমদানি করা মোবাইল ফোনের ওপর মোট করভার নেমে আসে ৪৩ দশমিক ৪৩ শতাংশে। যার মেয়াদ ছিল ৩০ জুন পর্যন্ত।
এদিকে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিদেশ থেকে আনা সম্পূর্ণ তৈরি মোবাইল ফোনের জন্য এই শুল্ক-সুবিধা বহাল রাখার কোনো ঘোষণাও দেওয়া হয়নি। ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরকারের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছে বাজার।
বিষয়টি নিয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
গ্রাহকের ঘাড়েই চাপ
সরকারের দেওয়া সাময়িক শুল্ক-সুবিধা প্রত্যাহার হলে আমদানি পর্যায়ে করের চাপ আবারও বাড়বে। বাজারে তার প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়বে খুচরা দামে। ফলে দিন শেষে বাড়তি ব্যয়ের সেই বোঝা টানতে হবে গ্রাহককেই। ইতিমধ্যে বেড়ে যাওয়া দামের সঙ্গে নতুন কর যুক্ত হয়ে একটি স্মার্টফোন কিনতে ক্রেতার খরচ আরও বাড়বে।
এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা ফাহিম মাশরুর। তাঁর মতে, স্মার্টফোন এখন আর বিলাসপণ্য নয়; এটি শিক্ষা, আয়-উপার্জন এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার প্রধান মাধ্যম। ফলে এর দাম বাড়ার চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদেরই বহন করতে হবে।
ফাহিম মাশরুর বলেন, স্মার্টফোনের দাম বাড়ানো মানে ডিজিটাল সেবার প্রবেশাধিকার আরও ব্যয়বহুল করে তোলা। স্মার্টফোনকে ডিজিটাল অবকাঠামোর অংশ হিসেবে বিবেচনা করে এর ওপর করের চাপ কমানো প্রয়োজন।
