

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও সহজ, নিরাপদ ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে দেশের সব মার্চেন্ট পয়েন্টে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এই নতুন নির্দেশনার ফলে এখন থেকে ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) এবং পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের নিজস্ব আলাদা কিউআর কোডের পরিবর্তে একক ও সমন্বিত ‘বাংলা কিউআর’ কোড ব্যবহার করতে হবে।
বাংলা কিউআর কী?
‘বাংলা কিউআর’ হলো বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত একটি সমন্বিত কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা। এর বড় সুবিধা হলো, গ্রাহকদের বিভিন্ন সেবার জন্য আলাদা আলাদা কিউআর কোড স্ক্যান করতে হবে না।
মাত্র একটি কিউআর কোড ব্যবহার করেই বিকাশ, নগদ, রকেটের মতো এমএফএস কিংবা যেকোনো ব্যাংকের অ্যাপ থেকে গ্রাহকেরা খুব সহজে তাদের কেনাকাটার বিল পরিশোধ করতে পারবেন।
মূল লক্ষ্য
বর্তমানে দেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে একাধিক প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন ভিন্ন কিউআর কোড প্রদর্শিত হয়, যা গ্রাহক ও ব্যবসায়ী উভয়ের জন্যই বেশ জটিলতা তৈরি করে। এই জটিলতা দূর করে দেশে একটি ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই উদ্যোগ নিয়েছে।
এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সব পুরোনো কিউআর কোড সরিয়ে ফেলার এবং সেখানে বাংলা কিউআর স্থাপনের চূড়ান্ত নির্দেশনা জারি করেছে।
২৫ জুন, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলা কিউআর লেনদেন বিষয়ক ক্যাম্পেইন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান এবং কবির আহমেদ এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের সুবিধা
বাংলা কিউআর চালুর ফলে দেশের আর্থিক লেনদেনে বড় পরিবর্তন আসবে। এর প্রধান সুবিধাগুলো হলো:
ঝামেলাহীন লেনদেন: গ্রাহকেরা কোনো ধরনের খুচরা টাকার ঝামেলা বা অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের চিন্তা ছাড়াই নির্ধারিত সঠিক মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন।
ব্যবসায়িক সুবিধা: খুচরা বিক্রেতা বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাউন্টারে একাধিক কিউআর কোড ঝুলিয়ে রাখার প্রয়োজন হবে না, একটি কিউআর কোডই সব ধরনের পেমেন্ট নেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
ঝুঁকি কমিয়ে ও আস্থা বৃদ্ধি: নগদ টাকা বহন করার ঝুঁকি কমবে, লেনদেনের ডিজিটাল রেকর্ড সহজে সংরক্ষণ করা যাবে এবং সামগ্রিকভাবে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।
অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব
ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতিটি লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার ফলে তার একটি সুনির্দিষ্ট 'ডিজিটাল ট্রেইল' বা তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এর ফলে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে:
১. অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি হ্রাস: ডিজিটাল ট্রেইলের কারণে অনানুষ্ঠানিক বা হিসাবের বাইরে থাকা অর্থনৈতিক কার্যক্রম কমে আসবে।
২. জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও রাজস্ব বৃদ্ধি: অধিকাংশ লেনদেন আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতায় চলে আসায় দেশের প্রকৃত জিডিপির আকার স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হবে।
একই সাথে ট্যাক্স-জিডিপির অনুপাত উন্নত হবে, যা সরকারের রাজস্ব আয় বাড়িয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও বেগবান করবে।
৩. মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ: ডিজিটাল নথির কারণে অর্থের গতিপ্রকৃতি অনুসরণ করা সহজ হবে, যা মানি লন্ডারিং বা অবৈধ অর্থ পাচার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডেপুটি গভর্নর কবির আহমেদ জানান, ডিজিটাল অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে আগামী বছর দেশে একটি 'ইন্টারঅপারেবল ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম (আইপিএস)' চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর মাধ্যমে যেকোনো মোবাইল ওয়ালেট থেকে ব্যাংক হিসাবে এবং ব্যাংক হিসাব থেকে মোবাইল ওয়ালেটে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ স্থানান্তর করা সম্ভব হবে, যা মানুষের ভোগান্তি ও লেনদেনের খরচ দুটোই কমিয়ে আনবে।
