

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


শুকনা কাশি বেশ বিরক্তিকর একটি সমস্যা। কাশির সময় সাধারণত কফ বের হয় না, বরং গলায় খুসখুসে ভাব বা অস্বস্তি থাকে। সর্দি-জ্বর কিংবা ভাইরাসজনিত শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের পর অনেকেরই কিছুদিন শুকনা কাশি থাকতে পারে। আবার অ্যালার্জি, ধুলাবালি, ধূমপান, অ্যাজমা, অ্যাসিড রিফ্লাক্সসহ বিভিন্ন কারণেও দীর্ঘদিন কাশি হতে পারে।
সাধারণ ভাইরাসজনিত সংক্রমণের পরের কাশি অনেক ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ধীরে ধীরে কমে যায়। তবে কাশি দীর্ঘস্থায়ী হলে এর কারণ শনাক্ত করা জরুরি।
শুকনা কাশির অন্যতম সাধারণ কারণ ভাইরাসজনিত সর্দি-জ্বর বা শ্বাসনালির সংক্রমণ। সংক্রমণ সেরে যাওয়ার পরও শ্বাসনালি কিছুদিন সংবেদনশীল থাকায় কাশি চলতে পারে। এ ছাড়া ধুলাবালি, ধোঁয়া, বায়ুদূষণ, অ্যালার্জি, হাঁপানি, অ্যাসিড রিফ্লাক্স এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও শুকনা কাশির কারণ হতে পারে।
পানি ও অন্যান্য উষ্ণ তরল পান করলে গলার শুষ্কতা ও অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে। শরীরে পানিশূন্যতা না থাকাও গুরুত্বপূর্ণ।
উষ্ণ বাষ্প নাক ও গলার শুষ্কতা কমিয়ে সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। তবে ভাপ নেওয়া কোনো সংক্রমণের চিকিৎসা নয় এবং এতে জীবাণু ধ্বংস হয় এমন প্রমাণ নেই। অতিরিক্ত গরম পানির ভাপ নেওয়ার সময় পোড়ার ঝুঁকি থাকায় সতর্ক থাকতে হবে।
গলা খুসখুস বা অস্বস্তি থাকলে হালকা গরম পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে গার্গল করা যেতে পারে। এতে গলার অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে।
প্রাপ্তবয়স্ক ও এক বছরের বেশি বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে অল্প মধু কাশির অস্বস্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এক বছরের কম বয়সী শিশুকে কোনোভাবেই মধু দেওয়া উচিত নয়, কারণ এতে বটুলিজমের ঝুঁকি থাকে।
সিগারেটের ধোঁয়া, ধুলাবালি, সুগন্ধি বা বায়ুদূষণ শুকনা কাশি বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই এসব উদ্দীপক থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকা ভালো।
কাশি হলেই নিজের ইচ্ছায় কফের সিরাপ বা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া ঠিক নয়। বিভিন্ন ধরনের কাশির ওষুধের উপাদান ও কাজ আলাদা। কিছু ওষুধে ঘুম ঘুম ভাব, মাথা ঘোরা বা অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। আবার কিছু ওষুধ উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে উপযুক্ত নাও হতে পারে।
বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং যারা নিয়মিত অন্য ওষুধ খান, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কাশির ওষুধ না খাওয়াই নিরাপদ।
সাধারণ ভাইরাসজনিত সর্দি-কাশিতে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করলে জীবাণুর ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে ওঠার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা উচিত নয়।
শুকনা কাশির সঙ্গে নিচের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি-
এ ছাড়া কাশি কয়েক সপ্তাহ ধরে না কমলে বা বারবার ফিরে এলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। দীর্ঘস্থায়ী কাশির পেছনে হাঁপানি, অ্যালার্জি, অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা অন্য কোনো শারীরিক কারণ থাকতে পারে।
বেশির ভাগ সাধারণ শুকনা কাশি সময়ের সঙ্গে কমে যায়। পর্যাপ্ত পানি পান, গলা আর্দ্র রাখা, ধোঁয়া-ধুলা এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন হলে মধু বা উষ্ণ তরল গ্রহণে কিছুটা আরাম মিলতে পারে। তবে দীর্ঘস্থায়ী বা গুরুতর উপসর্গ থাকলে নিজে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।



