

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


শক্তিশালী ও স্বাধীনচেতা নারী চরিত্রে অভিনয় করেই বলিউডে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন তাপসী পান্নু। ‘পিঙ্ক’, ‘থাপ্পড়’, ‘বদলা’, ‘মুল্ক’ কিংবা ‘হাসিন দিলরুবা’র মতো সিনেমায় ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। এই পরিচয়ই এখন অনেকটা ‘খাঁচা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে তার জন্য।
একই ধরনের চরিত্রে বারবার অভিনয় করতে চান না তাপসী। বরং পর্দায় নিজেকে আরো বৈচিত্র্যময়ভাবে তুলে ধরতে চান এই অভিনেত্রী। এ কারণেই পছন্দ না হলে একের পর এক সিনেমার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিচ্ছেন তিনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাপসী বলেন, বলিউডে অভিনেত্রীদের নির্দিষ্ট কিছু চরিত্রের মধ্যে আটকে রাখার প্রবণতা এখনও রয়েছে। তার মতে, ‘গ্ল্যামারাস’ চরিত্রের জন্য যেমন নির্দিষ্ট কয়েকজন অভিনেত্রীর কথা ভাবা হয়, তেমনি কঠিন কিংবা সামাজিক সমস্যাভিত্তিক চরিত্রের ক্ষেত্রেও রয়েছে আলাদা একটি তালিকা।
এই ধরনের ‘টাইপকাস্টিং’-এর বিরুদ্ধেই তাপসীর আপত্তি। তার ভাষায়, ‘সবাই নিজের সুবিধাজনক জায়গায় ফিরে যাচ্ছেন, পরীক্ষিত পদ্ধতিই অনুসরণ করছেন।’
তাপসী জানান, কোনো সিনেমার প্রস্তাব পাওয়ার পর গল্প বা চরিত্র পছন্দ না হলে শুধু সরাসরি ‘না’ বলেই থেমে থাকেন না তিনি। নির্মাতাদের বুঝিয়ে বলেন, দর্শক যদি সিনেমার পরিণতি আগেই আঁচ করে ফেলতে পারেন, তাহলে তাকে সেই ছবিতে নেওয়াও হয়তো নির্মাতাদের জন্য ভালো সিদ্ধান্ত হবে না।
এমনকি কয়েকটি সিনেমায় নিজেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে ‘ডি-সেল’ করেছেন বলেও জানিয়েছেন তাপসী। অর্থাৎ নির্মাতারা যাতে তাকে চরিত্রটির জন্য বেছে না নেন, সে জন্য নিজের দিক থেকেই তাদের নিরুৎসাহিত করেছেন অভিনেত্রী। তবে এর পেছনে রয়েছে তাপসীর ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের গল্পও।
তার দাবি, বলিউডে পা রাখার সময় তথাকথিত ‘নায়িকাকেন্দ্রিক’ চেনা চরিত্রের সুযোগ তার সামনে খুব বেশি ছিল না। ফলে তুলনামূলকভাবে কঠিন ও ভিন্ন ধরনের চরিত্রই বেছে নিতে হয়েছিল তাকে।
পরবর্তী সময়ে সেই সিনেমাগুলো জনপ্রিয় হওয়ায় তাপসীর পরিচয়ও ক্রমশ শক্তিশালী নারী চরিত্রের অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘এটা অনেকটা তুষারগোলকের মতো। ক্যারিয়ারের শুরুতে নিয়মমাফিক, চেনা ছকের চরিত্রের কোনো বিকল্প আমার সামনে ছিল না। তাই অন্য ধরনের চরিত্র বেছে নিয়েছিলাম। ভাগ্যক্রমে সেই ছবি ও চরিত্রগুলিই পরে মূলধারায় জায়গা করে নেয়।’
তাপসীর মতে, একই ধরনের চরিত্রে পরপর অভিনয় করা মানসিকভাবেও স্বাস্থ্যকর নয়। তাই এখন চরিত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আরও বেশি বৈচিত্র্য চান তিনি। ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘খেল খেল মে’র মতো হালকা মেজাজের ও মজার সিনেমায় অভিনয় করতেও তার আপত্তি নেই।
এদিকে এই মুহূর্তে তাপসীর ব্যস্ততা তার নতুন সিনেমা ‘গান্ধারী’ নিয়ে। নেটফ্লিক্সে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাবে সিনেমাটি। এতে বাণী চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। গল্পে বাণী এমন এক মা, যার মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে। মেয়েকে উদ্ধার করতে এরপর এক বিপজ্জনক ও নিরলস অভিযানে নেমে পড়ে সে।


