রবিবার
৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নেপালে পাহাড়ি ঢল

শিক্ষকের এক সিদ্ধান্তে বেঁচে যায় ১ হাজার ৬৪৩ শিশুর জীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

চারদিকে তখন ধেয়ে আসছে পাহাড়ি ঢল। সামনে স্কুল, ভেতরে শত শত শিশু। হাতে সময় বলতে প্রায় এক মিনিট। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নেপালের ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাদাবি। তার সেই সিদ্ধান্তেই ভয়াবহ বন্যার মুখ থেকে রক্ষা পায় ১ হাজার ৬৪৩ শিক্ষার্থীর জীবন।

ঘটনাটি ঘটে ২৬ আগস্ট বুধবার সকালে। ঘড়ির কাঁটা তখন ৯টা ২০ মিনিট। স্কুলে স্বাভাবিকভাবেই চলছিল পাঠদান। ওই সময় প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিল। আরও প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী তখন হেঁটে কিংবা স্কুলবাসে করে বিদ্যালয়ের পথে।

সে সময় স্কুল থেকে ৭-৮ কিলোমিটার দূরের উজানের বেত্রাবতী গ্রাম থেকে তার এক বন্ধু ফোন করে জানান, তাদের গ্রামটি ভেসে গেছে, দ্রুত এগিয়ে আসছে প্রবল ঢল। শুধু ওই ফোনই নয়, স্কুল এলাকার এক অভিভাবকও এসে জানান, দ্রুত বাড়ছে পানি।

এই দুই সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের পর এক মুহূর্তও দেরি করেননি দাদাবি। শিক্ষকদের নির্দেশ দেন, স্কুলের ঘণ্টা বাজিয়ে ক্লাস রুম থেকে বের করে শিশুদের দ্রুত উঁচু জায়গায় নিয়ে যেতে।

এখানেই শেষ নয়, তখনও বিপদের মুখে ছিল আরও প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী। যারা কয়েকটি স্কুলবাসে করে স্কুলের দিকে আসছিল। সে সময় দাদাবি গাড়ির চালকদের ফোন করে বাস স্কুলে না এসে নিরাপদ উঁচু স্থানে থাকার নির্দেশ দেন।

তবে, তখনও একটি বাসের সঙ্গে অবশ্য যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি স্কুল কর্তৃপক্ষের। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি দেখেন, বাসটি স্কুলের কাছের একটি সেতু পার হচ্ছে।

চারদিকে পানি। স্কুলের মাঠেও ঢুকে পড়েছে বন্যার স্রোত। দাদাবি চালককে বাস ঘুরিয়ে নিতে বলেন। কিন্তু ততক্ষণে বাসটি সেতুর মাঝপথে। শেষ পর্যন্ত বাসটি নিরাপদে অপর পারে পৌঁছায়। আর তার কিছুক্ষণ পরই ধসে পড়ে সেই সেতু।

এদিকে পানি ঢুকে পড়ে স্কুল ভবনে। প্রচণ্ড স্রোতে একে একে ভেসে যায় ভবনগুলো। শিক্ষার্থীদের নিয়ে দাদাবি ও অন্য শিক্ষকরা ছুটে যান পাহাড়ের দিকে। হেঁটে উঁচু জায়গায় পৌঁছায় শিশুরা।

পেছনে তখন আর তাদের স্কুলটি নেই। নেই শ্রেণিকক্ষ, নেই মাঠ। তবে বেঁচে আছে ১ হাজার ৬৪৩টি প্রাণ।

রূপালি পর্দার কল্পকাহিনীকেও হার মানানো এই লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা উঠে এসেছে দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে। ফুটে তোলা হয়েছে শিক্ষকের মহা কৃতিত্বের কথাও। যদিও ৪৭ বছর বয়সী রাজেন্দ্র দাদাবি মনে করেন, তার ভূমিকা ছিল আর দশজনের মতোই সাদামাটা।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন