

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মাইগ্রেন কি আসলেই আমাদের মস্তিষ্ককে দ্রুত বুড়ো করে দিচ্ছে? সম্প্রতি ‘ব্রেন কমিউনিকেশনস’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা এই প্রশ্নটিই সামনে এনেছে। তাইওয়ানের ১৮০ জন মানুষের ওপর করা এই গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত মাইগ্রেনের ব্যথায় ভোগেন, তাদের মস্তিষ্কের বয়স সুস্থ মানুষের চেয়ে গড়ে প্রায় ৪ বছর বেশি দেখায়! বিশেষ করে যাদের মাসে ১৫ দিনের বেশি মাথাব্যথা থাকে (ক্রনিক মাইগ্রেন), তাদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি।
মস্তিষ্কের যে অংশগুলো ব্যথা, আবেগ ও চিন্তাভাবনা নিয়ন্ত্রণ করে, মাইগ্রেনের কারণে মূলত সেই অংশগুলোই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই খবর শুনেই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এর মানে এই নয় যে মাইগ্রেন থাকলেই আপনার স্মৃতিভ্রম বা ডিমেনশিয়া হবে।
আসলে, মাইগ্রেন যখন হয়, তখন পুরো মস্তিষ্কে এক ধরণের ঝড় বয়ে যায়। ঘুম কম হওয়া, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ডিপ্রেশন এবং যত্রতত্র পেইনকিলার খাওয়ার মতো অভ্যাসগুলোও এর সাথে যুক্ত। চিকিৎসকদের মতে, শুধু মাইগ্রেন একাই মস্তিষ্ক বুড়ো করার জন্য দায়ী নয়; বরং মাইগ্রেনের সাথে থাকা এই অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রাই মস্তিষ্কের ক্ষতিটা বেশি করে।
তাহলে উপায় কী?
অনেকে ভাবেন, “মাইগ্রেন তো বংশগত রোগ, এটা নিয়েই বাঁচতে হবে।” চিকিৎসকরা বলছেন, এই ধারণা একদম ভুল। এখন মাইগ্রেন প্রতিরোধের জন্য চমৎকার সব আধুনিক ওষুধ ও থেরাপি (যেমন- বোটক্স বা সিজিআরপি ইনহিবিটরস) পাওয়া যায়।
মস্তিষ্ককে চিরসবুজ রাখতে এবং মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিচের কয়েকটি অভ্যাস গড়ে তুলুন:
• ঘুমের নিয়ম: প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান এবং ঘুম থেকে উঠুন।
• মানসিক চাপ কমান: ইয়োগা, মেডিটেশন বা হালকা ব্যায়ামের অভ্যাস করুন।
• ডাক্তারের পরামর্শ: নিজে নিজে পেইনকিলার না খেয়ে একজন ভালো নিউরোলজিস্টের অধীনে চিকিৎসা নিন।
