

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঘুমের মধ্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে বীর্যপাত হওয়াকে সাধারণভাবে স্বপ্নদোষ বলা হয়। বয়ঃসন্ধিকাল ও তরুণ বয়সে অনেক পুরুষেরই এমন অভিজ্ঞতা হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে অনেকের মধ্যে অযথা ভয়, লজ্জা বা দুশ্চিন্তা কাজ করে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্বপ্নদোষ শরীরের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার অংশ এবং এটি নিজে কোনো রোগ নয়।
বয়ঃসন্ধিকালে শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের সঙ্গে যৌন পরিপক্বতা শুরু হয়। এ সময় ঘুমের মধ্যে অনিচ্ছাকৃত বীর্যপাত হওয়া স্বাভাবিক। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের ক্ষেত্রে এর মাত্রা কমে আসে।
স্বপ্নদোষ কতবার হবে, তার নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নেই। কারও ক্ষেত্রে মাঝে মধ্যে হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি হতে পারে। শুধু কতবার হচ্ছে—এ বিষয়টি দিয়ে কোনো রোগ নির্ণয় করা যায় না।
স্বপ্নদোষের কারণে শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তি স্থায়ীভাবে কমে যায়—এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বীর্যপাতের পর সাময়িক ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে, তবে এটিকে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক দুর্বলতার কারণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
তাই স্বপ্নদোষ হয়েছে বলে ভয় পাওয়া বা শরীরের বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে মনে করে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।
কখনো কখনো যৌন উত্তেজনা বা ঘুমের পর লিঙ্গ থেকে স্বচ্ছ বা পিচ্ছিল তরল বের হতে পারে। এটি সবসময় বীর্য নয় এবং স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় কারণেও এমন হতে পারে।
তবে তরলের সঙ্গে ব্যথা, জ্বালাপোড়া, দুর্গন্ধ, রক্ত বা অন্য কোনো অস্বাভাবিকতা থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। যৌনবাহিত সংক্রমণের আশঙ্কা থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
স্বপ্নদোষ নিয়ে ভয়, অপরাধবোধ বা অতিরিক্ত চিন্তা অনেকের মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা, মন খারাপ বা দৈনন্দিন কাজে মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই এ বিষয়ে ভুল ধারণা থেকে নিজেকে দূরে রাখা জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাবার এবং ব্যস্ত ও স্বাভাবিক জীবনযাপন মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
স্বপ্নদোষ সাধারণত চিকিৎসার প্রয়োজন হয় এমন কোনো রোগ নয়। তবে নিচের কোনো সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—
প্রয়োজনে ইউরোলজি, চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ অথবা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
স্বপ্নদোষ হলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন এবং স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যান। এ কারণে নিজে থেকে কোনো ওষুধ, হারবাল বা যৌনশক্তিবর্ধক পণ্য ব্যবহার করা উচিত নয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্বপ্নদোষকে কোনো ‘দুর্বলতা’ বা পুরুষত্বের সমস্যা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। এটি অনেক পুরুষের ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক একটি শারীরবৃত্তীয় ঘটনা।
স্বপ্নদোষের নির্দিষ্ট ‘স্বাভাবিক সংখ্যা’ নেই। কতবার হচ্ছে তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো এর সঙ্গে কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ আছে কি না এবং এটি আপনার শারীরিক বা মানসিক সুস্থতায় প্রভাব ফেলছে কি না।



