

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে সরকার। নতুন কাঠামোর খসড়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামীকাল (সোমবার) এটি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য তোলা হতে পারে।
মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে এরপর জারি হবে প্রজ্ঞাপন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ করতে আরও এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
নতুন বেতনকাঠামোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হতে যাচ্ছে বাস্তবায়ন পদ্ধতিতে। জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বড় ধরনের বেতন বৃদ্ধির কথা থাকলেও, চূড়ান্ত প্রস্তাবে একবারে পুরো বাড়তি অর্থ দেওয়ার পরিবর্তে ধাপে ধাপে তা কার্যকর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর সুপারিশ চূড়ান্ত করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে প্রধান করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিই নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়ে সুপারিশ দিয়েছে।
সূত্র বলছে, কমিটি মূল বেতন ও ভাতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে শতভাগের বেশি বৃদ্ধির প্রস্তাব করেনি। একই সঙ্গে নতুন বেতনকাঠামো দুই অর্থবছরে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে মূল বেতন কার্যকর হওয়ার কথা। পরবর্তী অর্থবছরের শুরুতে অর্থাৎ আগামী বছরের ১ জুলাই থেকে ভাতা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
তবে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত প্রস্তাবে আগের সুপারিশে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রের ভাষ্য, ১ জুলাই থেকেই নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে, কিন্তু পুরো বাড়তি অর্থ একবারে না দিয়ে পর্যায়ক্রমে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় ১২ বছর পর গত বছরের ২৭ জুলাই নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। ২৩ সদস্যের ওই কমিশনের নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান।
কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।
প্রস্তাবিত কাঠামোতে বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই রাখার কথা বলা হয়। তবে গ্রেডভেদে মূল বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ ছিল।
কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার কথা ছিল। সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়।
বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন-ভাতা ও পেনশন বাবদ সরকারের বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়।
জাতীয় বেতন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, তাদের প্রস্তাব বাস্তবায়নে এর সঙ্গে আরও প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন হতে পারে।
এ কারণেই নতুন বেতনকাঠামো কীভাবে অর্থায়ন করা হবে, সেটি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় এই বরাদ্দ ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি।
নতুন বেতনকাঠামোর বাড়তি অর্থ একসঙ্গে দেওয়া সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত সপ্তাহে বলেছেন, সরকার একবারে পুরো অর্থ দিতে পারছে না।
দুই ধাপে দিলেও বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বিষয়টি নিয়ে হিসাব-নিকাশ চলছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বড় ধরনের আমদানির কারণে সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে ইচ্ছা থাকলেও একসঙ্গে পুরো অর্থ ছাড় করা সম্ভব হচ্ছে না।
গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দীর্ঘ সময় ধরে একই বেতনকাঠামোয় সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়ার পর জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় নতুন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বাজেট বক্তৃতায় তুলে ধরা হয়।
এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের ওপর। অনুমোদন মিললে প্রজ্ঞাপন জারির পর স্পষ্ট হবে; কোন গ্রেডে কতটা বেতন বাড়ছে, কীভাবে ধাপে ধাপে তা কার্যকর হবে এবং কর্মচারীরা ঠিক কখন থেকে নতুন হারে বেতন পাবেন।
অর্থাৎ, বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকরের পথে থাকলেও সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পুরো সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অপেক্ষা করতে হতে পারে আরও কিছু সময়।


