

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চোখের একটি নীরব ঘাতক রোগ হলো গ্লুকোমা। এই রোগে চোখের পেছনে থাকা অপটিক স্নায়ু (যা চোখকে মস্তিষ্কের সাথে যুক্ত করে) ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চোখের ভেতর তরল জমে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার কারণে মূলত এটি ঘটে। সঠিক সময়ে ধরা না পড়লে গ্লুকোমা মানুষের চিরতরে অন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে।
গ্লুকোমার লক্ষণ ও উপসর্গ
প্রাথমিক অবস্থায় গ্লুকোমার কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। চোখের পাশের বা কিনারার দৃষ্টিশক্তি খুব ধীরগতিতে কমতে থাকে বলে রোগী তা টেরই পান না। রোগ বাড়তে থাকলে কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে:
গ্লুকোমার ধরন
প্রাইমারি ওপেন অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা: এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। চোখের নিষ্কাশন নালীতে ধীরে ধীরে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়ে বহু বছর ধরে এটি বিকশিত হয়।
অ্যাকিউট অ্যাঙ্গেল ক্লোসার গ্লুকোমা: এটি তুলনামূলক কম দেখা যায়। চোখের নিষ্কাশন নালী হঠাৎ বন্ধ হয়ে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়।
সেকেন্ডারি গ্লুকোমা: চোখের অন্য কোনো রোগ বা প্রদাহের কারণে এটি দেখা দেয়।
কনজেনিটাল গ্লুকোমা: এটি খুবই বিরল এবং চোখের জন্মগত ত্রুটির কারণে খুব ছোট শিশুদের মধ্যে হতে পারে।
কাদের ঝুঁকি বেশি?
বয়স: বয়স বাড়ার সাথে সাথে ঝুঁকি বাড়ে। ৭০ থেকে ৮০ বছর বয়সীদের মধ্যে গ্লুকোমার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি থাকে। এছাড়া ৪০ বছর বয়সের পর থেকেই এ বিষয়ে সতর্ক হওয়া দরকার।
বংশগত কারণ: পরিবারে বাবা-মা বা ভাই-বোনের গ্লুকোমা থাকলে অন্যদেরও এই রোগ হওয়ার উচ্চ ঝুঁকি থাকে।
জাতিসত্তা: এশিয়ান, আফ্রিকান ও ক্যারিবিয়ান বংশোদ্ভূতদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা: ডায়াবেটিস রোগী কিংবা চোখের দৃষ্টির সমস্যা (কাছে বা দূরে দেখার ত্রুটি) থাকলে গ্লুকোমা হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
পরীক্ষা ও চিকিৎসা
নিয়মিত চেকআপ: কোনো ধরনের লক্ষণ না থাকলেও প্রতি দুই বছর পর পর একবার চোখ পরীক্ষা করানো উচিত। খুব দ্রুত ও ব্যথাহীন পরীক্ষার মাধ্যমেই গ্লুকোমা শনাক্ত করা সম্ভব।
চিকিৎসা পদ্ধতি: গ্লুকোমার কারণে একবার দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে গেলে তা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তবে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে অন্ধত্ব রোধ করা যায়। অবস্থার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসকরা চোখের ড্রপ, লেজার থেরাপি বা অস্ত্রোপচার করে থাকেন।
সতর্কতা: চোখের দৃষ্টি নিয়ে সামান্য সন্দেহ হলেও বা হঠাৎ কোনো উপসর্গ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। গ্লুকোমা ধরা পড়লে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও চোখ পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া নিরাপদ।


