

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চলতি বছর ডেঙ্গুর লক্ষণগুলোয় এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। প্রচলিত জ্বর বা মাথাব্যথার বদলে এবার এমন কিছু উপসর্গ নিয়ে রোগীরা হাসপাতালে আসছেন, যা দেখে সহজে ডেঙ্গু বলে আন্দাজ করা যায় না। আর ঠিক এই সচেতনতার অভাবেই অনেকে হাসপাতালে আসতে দেরি করছেন, যা মৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার মারা যাওয়া রোগীদের ৮০ শতাংশই হাসপাতালে ভর্তির মাত্র এক থেকে তিন দিনের মধ্যে মারা গেছেন।
এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির পেছনের কারণ এবং নতুন লক্ষণগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে রাখা জরুরি:
কেন উপসর্গ বদলে যাচ্ছে?
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের বড় একটি অংশ এর আগেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। আগেরবার এক ভেরিয়েন্টে আক্রান্ত হওয়ার পর এবার অন্য ভেরিয়েন্টে আক্রান্ত হওয়ার কারণে রোগের লক্ষণগুলো প্রথাগত ডেঙ্গুর মতো প্রকাশ পাচ্ছে না। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটিকে বলা হচ্ছে “কমপ্লিকেটেড বা এক্সটেনডেড ডেঙ্গু সিন্ড্রোম”।
ডেঙ্গুর নতুন ও পরিবর্তিত লক্ষণগুলো
হাসপাতালের চিকিৎসকরা যে নতুন উপসর্গগুলোর কথা জানিয়েছেন, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া: টানা তিন বা চার দিন ধরে ডায়রিয়া থাকা এবং ভালো না হওয়া। এমনকি এই মৌসুমে এমন গুরুতর রোগীও পাওয়া গেছে যাদের কোনো জ্বরই ছিল না, শুধু দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ডেঙ্গু ধরা পড়েছে।
জ্বর না থাকা: গরম বা অন্য কোনো কারণে সামান্য দুয়েক দিন হালকা জ্বর হয়ে সেরে যাওয়ার পর অনেকে বিষয়টি পাত্তা দেন না, যা পরে মারাত্মক ডেঙ্গুতে রূপ নেয়। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে ডেঙ্গুর মৌসুমে কোনো জ্বরই অনুভূত হয় না।
স্থায়ী বমি: জ্বর কমে যাওয়ার পর বা তার সঙ্গে যদি ঘন ঘন বমি শুরু হয় এবং তা কিছুতেই না কমে।
তীব্র মাথাব্যথা ও স্নায়বিক সমস্যা: মেনিনজাইটিসের মতো লক্ষণ দেখা দেওয়া- যেমন প্রচণ্ড মাথাব্যথা, ঘাড় বা হাত-পা শক্ত হয়ে যাওয়া কিংবা খিঁচুনি হওয়া।
হাত-পা ফুলে যাওয়া: শরীরের বিভিন্ন অংশ বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ফুলে যাওয়া।
শরীরে পানি জমা: রোগীর বুক বা পেটের ভেতরে পানি জমে যাওয়ার মতো জটিলতা তৈরি হওয়া।
অসহ্য পেট ব্যথা: পেটে তীব্র ও অসহনীয় ব্যথা অনুভূত হওয়া।
এই লক্ষণগুলো একটি একটি করে কিংবা একসঙ্গে একাধিক উপসর্গ হিসেবেও দেখা দিতে পারে।
কেন ঝুঁকি বাড়ছে?
সিডিসির নিয়ম অনুযায়ী ডেঙ্গুর তিনটি পর্যায় রয়েছে- জ্বর পর্যায়, গুরুতর পর্যায় (ক্রিটিক্যাল ফেইজ) এবং নিরাময় পর্যায়। বেশিরভাগ রোগী যখন চিকিৎসকের কাছে আসেন, ততক্ষণে তারা 'ক্রিটিক্যাল ফেইজ'-এ চলে যান। এ সময় রোগীর জ্বর কমে গেলেও বমি থামে না কিংবা রোগীর অজান্তেই রক্তচাপ মারাত্মকভাবে কমে যায়।
একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতা ব্যাহত হলে (মাল্টি-অরগান ডিসফাংশন) তখন আইসিইউ সাপোর্ট বা নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন হয়।
যেহেতু ডেঙ্গু মৌসুম চলছে, তাই এই সময়ে শরীর বা স্বাস্থ্যের স্বাভাবিক ছন্দে কোনো ধরনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন বা উপরিউক্ত উপসর্গগুলো দেখা দিলে মুহূর্তও দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো উচিত।


