

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন মানুষের রক্তচাপ, রক্তপ্রবাহ, হৃৎস্পন্দন, মেটাবলিজম, তাপনিয়ন্ত্রণ, প্রজনন ও শারীরিক বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীরে এই হরমোনের আধিক্যকে হাইপার-থাইরয়েডিজম এবং স্বল্পতাকে হাইপো-থাইরয়েডিজম বলা হয়।
এটি একটি অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত চোখের কোঠরের মাংসপেশি, চর্বি ও অন্যান্য কোষে প্রদাহ সৃষ্টি করে।
চোখের সমস্যা ও উপসর্গ
অটোইমিউন প্রতিক্রিয়ার কারণে চোখের কোঠরের মাংসপেশি ফুলে কয়েক গুণ বড় হয়ে যায়, যাকে মায়োপ্যাথি বলা হয়। চর্বি বৃদ্ধি ও পানি জমার (ইডিমা) কারণে চোখের কোঠরে স্থান সংস্থান না হওয়ায় চোখের গোলক সামনের দিকে ঠিকরে বের হয়ে আসে, যাকে প্রোপ্টোসিস বলে।
এছাড়া ফোলা মাংসপেশি যখন অপটিক নার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তখন তাকে অপটিক নিউরোপ্যাথি বলা হয়। এটি একটি জরুরি অবস্থা; দ্রুত চিকিৎসা না নিলে স্থায়ী অন্ধত্ব হতে পারে।
পাশাপাশি চোখ খসখস করা (ড্রাই আই), একটি জিনিস দুটি দেখা (ডাবল ভিশন) এবং চোখ লাল হওয়ার মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসা পদ্ধতি
রোগটির সক্রিয় অবস্থা সাধারণত প্রথম দুই-তিন বছর থাকে এবং পরবর্তীতে তা নিজে থেকেই নিষ্ক্রিয় বা সহনীয় হয়ে আসে। মৃদু উপসর্গে 'আর্টিফিশিয়াল টিয়ার' বা কৃত্রিম চোখের পানি ব্যবহারে স্বস্তি মেলে।
তবে অপটিক নার্ভে চাপ বা ডাবল ভিশনের মতো জটিলতায় দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ, রেডিওথেরাপি বা প্রয়োজনে চোখের কোঠরে জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা হয়।
আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি
লিঙ্গভেদে: পুরুষদের তুলনায় নারীদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৫ গুণ বেশি।
বয়সসীমা: সাধারণত ৩০ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
অন্যান্য কারণ: ধূমপায়ীদের ঝুঁকি সাধারণ মানুষের চেয়ে দ্বিগুণ। এছাড়া পারিবারিক ইতিহাস এবং পূর্বে রেডিওঅ্যাকটিভ আয়োডিন থেরাপি নেওয়া রোগীরা এই রোগের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন।


